ঘরে ফিরল লক্ষ্মী! অবশেষে কাটল দীর্ঘ উৎকণ্ঠা। প্রতিবেশী রাজ্য অসমে পাড়ি দেওয়া বক্সার বাঘিনী লক্ষ্মী ফিরে এল নিজের ডেরায়। মঙ্গলবার রাতেই তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে। আর এই গোটা উদ্ধারপর্বে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। তাঁর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ, তৎপরতা এবং অসমের বন দফতরের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগের জেরেই সম্ভব হয়েছে বাঘিনীকে ঘরে ফেরানো। বনমন্ত্রীর এই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রশাসনিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সম্প্রতি বিহার থেকে এই বাঘিনীকে নিয়ে আসা হয়েছিল। বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর থেকেই বন দফতরের নজরদারিতে ছিল সে। কিন্তু কয়েক দিন আগে নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে অসমের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে লক্ষ্মী। সেখানে একটি শুয়োর এবং একটি হরিণও শিকার করে সে। স্বাভাবিকভাবেই ভিন্রাজ্যে বাঘিনীর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে বন দফতরের অন্দরে।
আরও খবর
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিজেই উদ্যোগী হন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। অসমের বন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাঘিনীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। দুই রাজ্যের বন দফতরের সমন্বয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। বনমন্ত্রী বলেন, “বাঘিনীটিকে বাগে আনতে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চলে। তিনটি কুনকি হাতি ব্যবহার করেও প্রথমে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা নামার পর ঘুমপাড়ানি ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে তাকে কাবু করা হয়।”
এরপর নিরাপদে উদ্ধার করে মঙ্গলবার রাতেই বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হয় লক্ষ্মীকে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে বনমন্ত্রী জানান, “অনেকটা পথ এসেছে লক্ষ্মী। এখন সে ক্লান্ত।”
বন্যপ্রাণীরা কোনও ভৌগোলিক সীমানা মেনে চলে না। নতুন পরিবেশে নিজের এলাকা তৈরি করা কিংবা সঙ্গীর সন্ধানে অনেক সময় বাঘিনীরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। লক্ষ্মীর ক্ষেত্রেও তেমন কোনও কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বন আধিকারিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত বনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তৎপরতা এবং দুই রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয়ে লক্ষ্মীর ঘরে ফেরা নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বন দফতরে।


