মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

দিল্লিতে গিয়ে ‘ইয়েস পাপা’, বাংলায় ফিরে ‘ইয়েস ঘুসপেটিয়া’! মমতাকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন কেউ ডাকে না। একটি দুর্গাপুজো উদ্বোধনের জন্যও তাঁকে কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। উনি দিল্লি গিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন।’’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘‘বাংলায় অনুপ্রবেশ করে জামাই সেজে থাক। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে পাঠিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে, তার বিরোধিতা করছেন মমতা এবং রাহুল গান্ধী। দু’জনেরই উদ্দেশ্য অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় রেখে দেওয়া বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এ দিন প্রশংসা শোনা যায় শুভেন্দুর গলায়। সিপিএম ও তৃণমূলের আমলের নির্বাচনের সঙ্গে বিজেপির আমলের নির্বাচনের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘‘ফারাকটা চোখের সামনে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। খুন বা মৃত্যুর ঘটনা তো নেই-ই, আহত পর্যন্ত কেউ হননি।’’ তাঁর দাবি, প্রায় এক লক্ষ অক্সিলিয়ারি বুথ থাকা সত্ত্বেও একটি বুথেও পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। এমনকি তৃণমূলও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটেছে।’’

এ দিন গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে রাস্তায় নামছেন। দেশে এখনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে বলেই এই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধীদের নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। অন্যদিকে, দিগভ্রান্ত নকশাল, র‌্যাডিক্যাল, কমিউনিস্ট, জামাত এবং নির্বাচনে পরাজিত শক্তিগুলি নানা ধরনের মন্তব্য করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এ দিনের সফরে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, দীপাবলির আগে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলির প্রায় ১৯ হাজার শ্রমিকের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৫০ কেজি চাল দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উত্তরকন্যা থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হবে বলে জানান তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘‘এই কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে উত্তরকন্যায় আলোচনা হবে। কথা দিয়েছিলাম মাসে দু’বার করে উত্তরবঙ্গে আসব। তবে তার চেয়েও বেশি আসা হচ্ছে।’’ আগামী দিনে জনজাতি গৌরব দিবস উপলক্ষে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে আসার পাশাপাশি রাসমেলার উদ্বোধন করতেও উত্তরবঙ্গে আসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে রাজনৈতিক আক্রমণ, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা—দুই বিষয়েই এ দিনের শিলিগুড়ি সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Bengal Liberty