তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

ভুয়ো ডাক্তার চক্রের তদন্তে বড় মোড়! বারুইপুরে গ্রেফতার তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর ও এক নেতা

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বারুইপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশিস দেবরায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিকাশ দত্ত এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেলো নামে এক ব্যক্তি। তবে ভুয়ো চিকিৎসক চক্রে তাঁদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

সম্প্রতি বারুইপুরের দুর্গাপুর, কুন্দরালি ও বেলেগাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তপন কুমার বৈরাগী, বাসুদেব নস্কর এবং আশিস কুমার বড়াল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, বৈধ চিকিৎসা সংক্রান্ত ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রোগীদের চিকিৎসা করছিলেন। শুধু তাই নয়, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তিদের নামে মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের পরিধি বাড়ান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ওই চিকিৎসকদের কাছে পাঠাতেন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর ও নেতা। তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের যোগাযোগের প্রকৃতি এবং এই লেনদেনের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই গ্রেফতারির ফলে ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কোনও যোগসাজশ ছিল কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে শুধুমাত্র গ্রেফতারির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হয় না। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গোটা চক্রের কার্যপদ্ধতি এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বারুইপুরের কীর্তনখোলা শ্মশান দুর্নীতি নিয়েও এর আগে একাধিক অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। সেই বিতর্কের আবহে ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের তদন্তে দুই কাউন্সিলর ও এক নেতার গ্রেফতারির খবরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনীতিতে। চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের নাম জড়ানো—সব মিলিয়ে এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Bengal Liberty