Bengal Liberty
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে (Agnimitra Paul)। এবার নেতাজিকে নিয়ে অপমান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, ” নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করে, আলাদা করে আমার কিছু বলার নেই। খুব দুঃখজনক।নেতাজির অপমান বাঙালির অপমান! আমরা সেটা বরদাস্ত করব না। আর আমরা এটা নিয়ে কোনো রাজনীতিও করতে দেব না। আমরা আগেই জানিয়েছি। এটা তার পার্সোনাল বক্তব্য, এটা আমার পার্টির বক্তব্য নয়, এটা আমার সরকারের বক্তব্য নয়। কেউ যদি কোন রকম কমেন্ট করে সেখানে তার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের নয়। ” বক্তব্যের মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করলেন পুরমন্ত্রী।

অনন্ত মহারাজের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক Agnimitra Paul
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকাও ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন।” এখানেই থেমে না থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়েও বিতর্কিত দাবি করেন তিনি।

অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, “জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়।” এরপর তিনি আরও বলেন, “নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন।” ব্রিটিশ শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল।” এছাড়াও তাঁর দাবি, “কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হতো, তবে দেশভাগ হতো না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”
আরও খবর

উল্লেখ্য, অনন্ত মহারাজকে কোচবিহারের মহারাজা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র আপত্তি জানালেন প্রাক্তন বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দেব। সেই বিতর্কের মধ্যেই তাঁর কাছ থেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নবান্নের। অর্থাৎ, যে সম্মান কয়েক মাস আগেই দেওয়া হয়েছিল, এবার সেই সম্মানই প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এই দায় দলের নয়, সম্পূর্ণ উনার নিজের। ” এবার নজর, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।


