Bengal Liberty
১১ আগস্ট শহিদ ক্ষুদিরাম(Suvendu Adhikari) বসুর আত্মবলিদান দিবসে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনীতে তাঁর জন্মভিটে পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অগ্নিকিশোর এই বীর বিপ্লবীর জন্মভূমিতে তাঁর প্রতিকৃতি ও পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর জেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
মোহবনীতে দাঁড়িয়ে ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জন্মভূমির উন্নয়ন নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের তুলনায় তাঁর জন্মভূমি যথেষ্ট উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সিঙ্গুরে টাটাদের তাড়ানোর ঘটনা নিয়ে আলোচনা হলেও বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ইতিহাস অনেক সময় মাত্র কয়েক লাইনে সীমাবদ্ধ থেকে যায় বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

মিউজিয়াম, গ্যালারি(Suvendu Adhikari)
মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এলাকায় তৈরি হবে মিউজিয়াম, ক্ষুদিরাম গ্যালারি এবং লেজার শো। পাশাপাশি ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা করতে যাঁরা এই পুণ্যভূমিতে আসবেন, তাঁদের থাকার জন্য আবাসন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।জেলাশাসকের নেতৃত্বে এই উন্নয়নমূলক কাজগুলি করা হবে বলে জানান তিনি। বর্ষার প্রকোপ কিছুটা কমলেই দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বছর ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে এসে যাতে এই সমস্ত কাজের অগ্রগতি দেখতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি।
আরও খবর
লেজার শো(Suvendu Adhikari)
শুধু জন্মভূমির উন্নয়ন নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রেও ক্ষুদিরাম বসুর ইতিহাসকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুলের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও ক্ষুদিরাম বসুর আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পড়ানোর বিষয়ে শিক্ষা দফতরকে চিন্তাভাবনা করার নির্দেশ দেন তিনি।
আবাসনের পাশাপাশি ইতিহাসে ক্ষুদিরাম(Suvendu Adhikari)
বাম ও তৃণমূল জমানায় মোহবনীর উন্নয়নে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মোহবনীর উন্নয়ন নিয়ে তিনি কিছু ভাবছেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্থানকে ঘিরে উন্নয়নের ভাবনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অমিত শাহের সেই অনুপ্রেরণা তাঁকে আরও উৎসাহিত করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কেশপুর যেভাবে বঞ্চিত হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করার অপরাধে নিরীহ সাধারণ মানুষকে জেল খাটানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘কিছুই ভুলিনি।’’ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটা সংস্কারের পাশাপাশি কেশপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও রাজ্য সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।



