penguins death
অনাহারে মৃত্যু প্রায় ৬০ হাজার পেঙ্গুইনের। গত ৩০ বছরে আফ্রিকান পেঙ্গুইন (African penguin) প্রজাতির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এই তথ্য সামনে আসতেই উদ্বেগে বন্যপ্রাণী মহল। পাশাপাশি চিন্তিত পরিবেশ বিশেষজ্ঞেরাও। প্রাথমিক ধারণা উপকূল অঞ্চলে সার্ডিন মাছের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ার ফলেই অনাহারে মৃত্যু হচ্ছে পেঙ্গুইনদের। তবে,শুধুমাত্র খাদ্য সংকট না পেঙ্গুইনের মৃত্যুতে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে আবহাওয়া পরিবর্তনকেও। সম্প্রতি অস্ট্রিচ : জার্নাল অব আফ্রিকান অরিন্থোলোজি-এর নতুন এক গবেষণায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে,২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফ্রিকান পেঙ্গুইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল ডাসেন দ্বীপ (Dassen Island) ও রবিন আইল্যান্ডে (Robben Island) ৯৫ শতাংশেরও বেশি পেঙ্গুইন কমে গিয়েছে। মোল্টিং বা পালক পরিবর্তনের সময় প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবে তারা মারা গেছে বলেও গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিমাত্রায় মাছ শিকারকে এই হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওস্ট্রিচ: জার্নাল অব আফ্রিকান ওরনিথোলজি (penguins death)
ওস্ট্রিচ: জার্নাল অব আফ্রিকান ওরনিথোলজি-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, এ বিপর্যয় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশনের শিক্ষক ড. রিচার্ড শার্লি (Dr Richard Sherley) জানান,‘‘আফ্রিকান পেঙ্গুইনের সংখ্যা গত তিন দশকে প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন অন্যান্য স্থানেও উল্ল্যেখযোগ্য হারে পেঙ্গুইন কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, বছরে একবার আফ্রিকান পেঙ্গুইনের ক্ষয়ে যাওয়া পালক বদলে নতুন পালক গজায়। এই পালক বদলকে বলে ‘মোল্টিং’(moult)। যাতে তাদের শরীরের তাপরোধ ও জলরোধী ক্ষমতা বজায় থাকে।সে সময় প্রায় ২১ দিন ধরে তারা স্থলে থাকতে বাধ্য হয় এবং কিছু খেতে পারে না। অনাহারে মৃত্যু এড়াতে তার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বেশি করে সার্ডিন মাছ খেয়ে শরীর বাড়তি চর্বি মজুত রাখে পেঙ্গুইনেরা। কিন্তু ২০০৪ সালের পর উপকূলে সার্ডিন মাছের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের কম হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শরীরে বাড়তি চর্বি জমানোর সুযোগ না-পেয়েই পালক-বদলপর্বের মুখোমুখি হয়ে মারা পড়ছে তারা।
গবেষণায় আরও বলা হয়, উপকূলীয় জলের তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার পরিবর্তনে মাছের ডিম ছাড়া কমে গেছে, কিন্তু মাছ শিকার বেড়েছে। যেটা পেঙ্গুইন মৃত্যুর একটি বড় কারন।
গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই উদ্বেগে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মহল।
