election 2026
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই কলকাতার ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারে বড় দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সভা থেকে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফার ভোটেই বিজেপি ৭০টির বেশি আসন পাবে এবং ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করবেন বলে তিনি দাবি করেন।

দ্বিতীয় দফায় ৭০টির বেশি আসন পাবে বিজেপি
ভবানীপুরে প্রচারসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, প্রথম দফার ভোটে বিপুল ভোট পড়েছে এবং সেই ভোটের সিংহভাগই বিজেপির পক্ষে গেছে। তাই দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হলেই বিজেপির আসন সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “দ্বিতীয় দফার ভোটের পরই বিজেপি ৭০টির বেশি আসন পেয়ে যাবে। মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তৃণমূল সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আর নেই।”
ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে লড়াই
ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে এবার রাজনৈতিক লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কেন্দ্র থেকেই বহুবার জয়ী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এটি তাঁর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ভবানীপুর থেকে তিনি আগেও জয় পেয়েছেন। তবে এবার এবার পরিস্থিতি বদলেছে। বিরোধী দল নেতার কথায়, “ভবানীপুরে এবার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৫ হাজারের বেশি ভোটে হারানো হবে।”

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ
ভোটের প্রচারে এদিন আরও আক্রমণাত্মক সুরে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটে অত্যন্ত ভালো সাড়া মিলেছে এবং প্রায় বিরানব্বই শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, প্রথম দফার ভোটের ভিত্তিতে বিজেপি একশো দশেরও বেশি আসন পেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিনের সভা থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনামলে একের পর এক দুর্নীতি ও অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, আরজিকর কাণ্ড, দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডসহ একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রাজ্যে পরিবর্তন জরুরি। সেই কারণেই রাজ্যের মানুষকে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হলে দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও সুশাসন পাবে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি লড়াই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র হয়েছে।
এবার ভবানীপুরের ময়দানে শুভেন্দুর এই দাবি রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
