amit saha
Bengal Liberty: SIR নিয়ে এবার বিরোধীদের আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভিন দেশের ভোটারদের কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে?
লোকসভায় শাহি ভাষণ (Amit shah)
আজ, বুধবার লোকসভায় SIR-এর আলোচনা-পর্বে এমনই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেইসঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “SIR আর কিছু নয়, এটা স্রেফ ভোটার তালিকার সংশোধন। আমি মেনে নিচ্ছি যে এটার কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আঁতে ঘা লাগবে। ওই দলগুলির প্রতি একদিক থেকে আমার সহানুভূতিও আছে। কারণ, দেশের ভোটাররা তো ভোট দেন না। কয়েকটি ভোট বিদেশিরা দিয়ে দিতেন, সেটাও চলে যাবে। কিন্তু ভারতীয় হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে এই দেশের সাংসদদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে, রাজ্যের বিধায়কদের নির্বাচনের জন্য ভিন দেশের ভোটারদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত কি? আমাদের মতে, সেটা দেওয়া উচিত নয়।”
এখানেই শেষ নয় সেইসঙ্গে এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন, “যে বিজেপিও নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেনি। এখন মমতা, হেমন্ত সোরেন, এমকে স্টালিন, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খারগে, তেজস্বী যাদব, অখিলেশ যাদব, ভগবাত মানরাও কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন। আগে শুধু কংগ্রেস সেই কাজটা করত। কিন্তু এখন বন্ধুত্বের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলিতেও। সাংবিধানিক এক প্রতিষ্ঠানের উপর প্রশ্ন তুলে কমিশন এবং ভারতের গণতন্ত্রের ছবি নষ্ট করছেন আপনারা।”
বিরোধীদের একহাত নিয়ে শাহ বলেন, “আসলে ভোটে হারের কারণ তাদের নেতৃত্বের দুর্বলতা। কমিশন এবং ভোটার তালিকা নয়। মানুষের মনে এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ তারাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন। আমরা তো অমেঠি, ওয়েনাড়ের ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলাম। সেটা নিয়ে তো কোনও কথা বলেন না।”
এদিন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপরেও চটে যান অমিত শাহ। শাহের অভিযোগ, যে বিরোধীরা SIR নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। এর পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা রাহুলের পূর্বে করা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন শাহ। কংগ্রেস সাংসদ হরিয়ানায় ভোটচুরির অভিযোগও করেছিলেন। এই নিয়ে রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। রাহুল সংসদে দাঁড়িয়ে অমিত শাহকে সাংবাদিক বৈঠক করা নিয়ে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহও বলেন, সংসদ এভাবে চলবে না। আমি যে ক্রমে কথা বলব তা আমি সিদ্ধান্ত নেব।
রাহুল গান্ধী বলেন, “গতকাল আমার প্রশ্ন ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। এর পিছনের চিন্তাভাবনা আমাদের বলুন। আসুন আমার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বিতর্ক করা যাক। অমিত শাহজি, আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি, সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে বিতর্ক করুন।” রাহুলের চ্যালেঞ্জ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শাহ বলেন, “আমি এটি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি ৩০ বছর ধরে বিধানসভা এবং সংসদে নির্বাচিত হয়েছি। সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
