Narendra Modi Ranaghat
Bengal Liberty Desk, ২০ ডিসেম্বর, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Norendra Modi Ranaghhat)এক ঝলক দেখতে এসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল চারজন বিজেপি সমর্থকের। নদিয়ার তাহেরপুরে মোদির সভার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় (Train Accident ) ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের, পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও এক ব্যক্তির। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও এক।
রেল সূত্রে জানা গেছে,তাহেরপুর ও বাদকুল্লা স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেল লাইনের উপর দিয়েই সভাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন বিজেপি সমর্থকরা (Narendra Modi Ranaghat) মোদির সভায় যোগ দিতে এসে মৃত্যু, রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষোভ বিজেপির। সেই সময় আচমকাই একটি ট্রেন চলে এলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রামপ্রসাদ ঘোষ (৭৪), মুক্তিপদ সূত্রধর (৫৫) এবং গোপিনাথ দাস (৩৫)-এর। তিনজনেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার অন্তর্গত এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয় বছর ৪৭- এর ভৈরব ঘোষের ।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন (Narendra Modi Ranaghat)
প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথা জানা সত্ত্বেও যথাযথ নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার অভাব ছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি,সভাস্থলের আশপাশে পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত।

দুর্ঘটনায় মৃত বিজেপি সমর্থকদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছেন তৃণমূল নেতা মাহে আলম ও গোলাম মুর্শেদ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- সভা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সময় অনুপস্থিত থাকা প্রশাসন দুর্ঘটনার পর সক্রিয় হল কেন?
মোদির সভায় যোগ দিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এই কর্মী সমর্থকদের। তাঁদের লড়াকু মনের বাহবা জানিয়ে মৃত দেহ মাল্যদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাঁদের মৃতদেহ দলীয় পতাকায় ঢেকে দেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃত কর্মী সমর্থকদের বাড়ি গিয়ে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন তিনি। প্রত্যেকের পাশে থেকে সব রকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে আসেন তিনি। বিজেপি কর্মীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা সহ উপস্থিত প্রত্যেকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা সম্পন্ন হলেও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিজেপির তরফে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
