Mir Yaar Baloch
Bengal Liberty: চিন ও পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেলে বালুচিস্তান কার্যত সামরিক দখলের মুখে পড়তে পারে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বালুচ নেতা (Baloch Leader)মির ইয়ার বালুচ (Mir Yaar Baloch) । ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি শুধু বালুচ জনগোষ্ঠীর নয়, ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্যও গভীর হুমকি তৈরি করতে পারে।
কী রয়েছে সেই খোলা চিঠিতে? (Mir Yaar Baloch)
টুইটার-এ প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে বালুচ নেতা মির ইয়ার বালুচ সতর্ক করে জানিয়েছেন, চিন ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যা গোটা অঞ্চলের স্থিতাবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘনিষ্ঠতা আর শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বোঝাপড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি বালুচ জনগণের অস্তিত্ব ও অধিকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের অধীনে বালুচিস্তান দীর্ঘ সময় ধরেই নিপীড়ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাঁর মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হিংসা, মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং স্বাধীনতার দাবিতে সরব মানুষের ওপর কঠোর দমননীতি সেখানে বছরের পর বছর ধরে চলেছে। এই পরিস্থিতিকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও মত তাঁর। তিনি জানান, বালুচ জনগণের মনে শান্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
চিন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর(CPEC (China–Pakistan Economic Corridor) ঘিরে বিশেষ উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন মির ইয়ার বালুচ (Mir Yaar Baloch) । তাঁর দাবি, বালুচিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই প্রকল্প কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে এবং প্রকল্প যত এগোচ্ছে, ততই সেখানে সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা বাড়ছে। তাঁর আশঙ্কা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের আড়ালে চিন ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি বালুচিস্তানের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষামূলক শক্তিগুলিকে আগের মতোই অবহেলা করা হয়, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আমূল বদলে যেতে পারে। স্থানীয় মানুষের মতামতকে পাশ কাটিয়ে কোনও বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ হলে তার প্রভাব শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, বালুচ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যদি বালুচিস্তানের মাটিতে চিনা সেনা নামানো হয়, তবে তার ফলাফল শুধু স্থানীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রায় ছয় কোটি বালুচের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কোনও পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’(Operation Sindoor)শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় ভারতের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ভারত।
