DEV-Mohammed Shami
Bengal Liberty: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু নতুন বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো শুনানির নোটিসকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস একে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আক্রমণ শানালেও, বিরোধীদের কটাক্ষ—এটা আসলে নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেই রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বানানোর চেষ্টা।
SIR তালিকার শুনানি পর্বে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেব, এবং ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামি। এই নামগুলিকে সামনে এনে তৃণমূল নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশ আবেগী মন্তব্য করলেও, বিজেপির বক্তব্য—আইনের চোখে সকলেই সমান।
অন্যদিকে, SIR শুনানিতে ডাকা হলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে মহম্মদ সামির হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে আগেই জানা গিয়েছিল। বিষয়টি ঘিরেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হলেও, নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে—প্রয়োজনে প্রতিনিধি বা নথির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
SIR শুনানিতে ডাক পাওয়া কামারহাটি পুরসভার পাঁচ বারের কাউন্সিলর বিমল সাহা গোটা বিষয়টিকে “রাজনৈতিকভাবে ফুলিয়ে ফাঁপানো” বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর মতে, “SIR-কে ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এমনকি কাঁচড়াপাড়া ও কল্যাণি এলাকায় রেলের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে কিছু মহল SIR-কে দায়ী করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ। বিজেপির দাবি, বাস্তব ঘটনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে গুলিয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপির কটাক্ষ—যেখানে নিয়ম মানার কথা, সেখানে নাটক করা হচ্ছে। একই সুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, “ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটা গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।”
সব মিলিয়ে SIR শুনানি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে একদিকে তৃণমূলের আবেগী রাজনীতি, অন্যদিকে বিজেপির দাবি—এটা শুধুই নিয়ম, নাটক নয়।
দেব ও মহম্মদ সামির প্রতিক্রিয়া কী? (SIR)
SIR শুনানির নোটিস নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চললেও, সংশ্লিষ্ট দুই পরিচিত মুখ—দেব ও মহম্মদ সামি—এই ইস্যুকে পুরোপুরি রাজনৈতিক রঙ দিতে নারাজ।
অভিনেতা ও ঘাটাল সাংসদ দেবের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিষয়টিকে তিনি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। দেবের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কোনও বিভ্রান্তি থাকলে তা নিয়ম মেনেই পরিষ্কার করা উচিত। অযথা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মত তাঁর।
অন্যদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মহম্মদ সামির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অনুশীলন ও শারীরিক প্রস্তুতির কারণে নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তাঁর তরফে জানানো হয়েছে, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রয়োজনীয় নথি ও প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবেন।
শামির ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, “একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেশের হয়ে খেলা তাঁর প্রথম দায়িত্ব। তবে তার মানে এই নয় যে তিনি কোনও আইনগত প্রক্রিয়া এড়াতে চান।”
এই দুই প্রতিক্রিয়াই বিজেপির সেই দাবিকেই জোরালো করছে—SIR কোনও রাজনৈতিক টার্গেটিং নয়, বরং একটি নিয়মতান্ত্রিক যাচাই প্রক্রিয়া, যেখানে আবেগ নয়, নথিই শেষ কথা।
কামারহাটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিমল সাহার বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। বিমল সাহার দাবি, তিনি ২০০০ সাল থেকে পাঁচবার ভোটে লড়েছেন এবং ২০১৫ ও ২০২২ সালে দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, অথচ তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর ও তাঁর পরিবারের কারও নাম নেই। বিজেপির প্রশ্ন—যদি সত্যিই সেই সময় ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, তবে ২০০০ সালে কীভাবে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হলেন? বিজেপির মতে, এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় গরমিল থাকলেও তখন তা নিয়ে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। এখন নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনে যাচাই শুরু করতেই একে ‘খামখেয়ালি’ বলা হচ্ছে। হিয়ারিং নোটিস পাওয়ার পর বিমল সাহার উদ্বেগ প্রকাশকে বিজেপি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল বলেই ব্যাখ্যা করছে। একইভাবে হুগলির ডানকুনিতে খসড়া তালিকায় এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে মৃত দেখানোর ঘটনাকেও বিজেপি বলছে—এইসব ভুলই প্রমাণ করে কেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) জরুরি। বিজেপির মতে, এখানে আবেগ বা রাজনৈতিক নাটক নয়, নথিভিত্তিক সংশোধনই গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজন।
