10-Minute Delivery Ends
পৌলমী গোস্বামী, Bengal Liberty: মাত্র ১০ মিনিটে (10-Minute Delivery Ends) খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে যাবে। শহুরে জীবনে এই প্রতিশ্রুতি যেন বিলাসিতা আর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সেই দ্রুততার আড়ালেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামছিলেন হাজার হাজার গিগ ওয়ার্কার (Gig workers safety)। দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত চাপ এবং একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। পাকাপাকিভাবে ১০ মিনিটে ডেলিভারি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফুড ও কুইক-কমার্স সংস্থাগুলিকে। (Food and quick commerse)

গিগ ওয়ার্কারদের দীর্ঘদিনের দাবি (10-Minute Delivery Ends)
১০ মিনিটে ডেলিভারি বন্ধের দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই গিগ ওয়ার্কাররা (Gig workers safety)অভিযোগ করে আসছিলেন, এই অস্বাভাবিক সময়সীমা পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। দ্রুত ডেলিভারির চাপে ট্রাফিক আইন ভাঙা, বিশ্রামহীন কাজ এবং অনিরাপদ কর্মপরিস্থিতি যেন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে উঠেছিল।
চাকরির নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যবিমা ও ন্যূনতম সুরক্ষার দাবির পাশাপাশি ১০ মিনিটে ডেলিভারি সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন তাঁরা। ২০২৫ সালের শেষ মাসে দেশে বড় শহরগুলিতে ধর্মঘটও হয়, যাতে এই দাবিগুলি উঠে আসে। কিন্তু সংস্থাগুলি প্রাথমিকভাবে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়ারের মধ্যস্থতায় ব্লিঙ্কিট (Blinkit), জেপটো (Zepto)-এর মতো সংস্থাগুলি ১০ মিনিটের ডেলিভারি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
অবশেষে সুরাহা মিলল
গত কয়েক মাস ধরে গিগ ওয়ার্কারদের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদেও জোরালো আলোচনা হয়। তাড়াহুড়ো করে ডেলিভারি দিতে গিয়ে একের পর এক দুর্ঘটনার ঘটনায় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর দেশের একাধিক বড় শহরে গিগ ওয়ার্কারদের ধর্মঘট নজর কাড়ে। ৩১ ডিসেম্বর ফের সেই আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি ঘটে। এর পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রভাব
গ্রাহকরা ১০ মিনিটে ডেলিভারি সুবিধা আর পাবেন না। সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, কর্মীদের চাপ কমানো, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে গিগ ওয়ার্কারদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।শ্রমিক সংগঠন ও বিশ্লেষকরা বলছেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত ডেলিভারির চাপ কমলে দুর্ঘটনা ও মানসিক চাপ কমবে।” সংসদেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল।
কী বদলাবে?
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে গিগ ওয়ার্কারদের কাজের গতি কমলেও নিরাপত্তা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুততার বদলে মানবিক কাজের পরিবেশই ভবিষ্যতের লক্ষ্য—এমনটাই বার্তা দিতে চাইছে সরকার।
