Messi in Kolkata
Bengal Liberty, কলকাতা:
লিয়োনেল মেসি(Messi in Kolkata) ফিরে গিয়েছেন নিজের জগতে। প্রাক্তন পুলিশ মহানির্দেশক রাজীব কুমার অবসর নিয়েছেন। আর যুবভারতীকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা আয়োজক শতদ্রু দত্ত ৩৯ দিন জেল খাটার পর এখন অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত। কিন্তু বদলায়নি সাধারণ দর্শকদের ভাগ্য। গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে এক ঝলক দেখার জন্য যাঁরা ঘটিবাটি বেচে বা জমানো পুঁজি খরচ করে হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের প্রাপ্তির ঝুলি আজও শূন্য। প্রতিশ্রুতি ছিল টাকা ফেরতের, কিন্তু সেই আশ্বাস এখন আদালতের অলিন্দে ‘বিচারাধীন’ তকমা সেঁটে কার্যত ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

স্বপ্নের সন্ধ্যা যখন দুঃস্বপ্ন(Messi in Kolkata)
আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন নিয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিনরাজ্য থেকেও এসেছিলেন বহু অনুরাগী। কিন্তু অব্যবস্থা আর বিশৃঙ্খলার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় ফুটবল প্রেম। অভিযোগ, মন্ত্রী, সান্ত্রী আর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভিড়ে সাধারণ দর্শকরা ব্রাত্য হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, মেসি এবং তাঁর সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পলকে নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে চোখের দেখা দেখতে পাননি অনিন্দিতা বেরাদের মতো সাধারণ মানুষ। এর পরেই ফেটে পড়ে গণরোষ, ভাঙচুর চলে স্টেডিয়ামে।

প্রশাসনিক আশ্বাস ও বর্তমান বাস্তবতা(Messi in Kolkata)
ঘটনার ঠিক পরেই তৎকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জনসমক্ষে ঘোষণা করেছিলেন যে, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত এবং তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ঘটনার অভিঘাতে ‘স্তম্ভিত’ হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান চিত্রটা বড়ই করুণ। রাজীব কুমার গত ৩১ জানুয়ারি অবসর নিয়েছেন, আর তদন্ত কমিটির ‘ইতিবাচক’ ইঙ্গিত এখন আদালতের বিচারাধীন বিষয়ের দোহাই দিয়ে থমকে আছে।

সিট-এর তদন্ত ও অর্থের হদিশ(Messi in Kolkata)
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তাদের তদন্তে দেখেছে, একটি অনলাইন সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩৪,৫৭৬টি টিকিট বিক্রি হয়েছিল, যা থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২০ কোটি টাকারও বেশি। পুলিশ শতদ্রু দত্তর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে সেখানে ২২ কোটি টাকার হদিশ পেয়েছে। আদালতে ‘সিট’ বার বার সওয়াল করেছে যে, এই গচ্ছিত টাকা থেকেই দর্শকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে সেই প্রক্রিয়া এখনও বিশ বাঁও জলে।

অভিযুক্তের যুক্তি ও আইনি জটিলতা(Messi in Kolkata)
গত ১৯ জানুয়ারি জামিন পাওয়ার পর থেকেই শতদ্রু দত্ত কার্যত ‘বেপাত্তা’। তাঁর আইনজীবীদের যুক্তি অত্যন্ত কৌশলগত। তাঁদের দাবি, শতদ্রু দোষী কি না তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। চার্জশিট পেশ হওয়ার আগেই যদি টাকা ফেরত দেওয়া হয়, তবে তা পরোক্ষভাবে তাঁর দোষ কবুল করে নেওয়ার সামিল হবে। এছাড়া, টিকিটের পেছনে ‘নো রিফান্ড’ (টাকা ফেরতযোগ্য নয়) শর্তের কথাও উল্লেখ করছেন তাঁরা। অর্থাৎ, আইনি লড়াই যতদিন চলবে, সাধারণ মানুষের টাকা পাওয়ার আশা ততই ক্ষীণ হতে থাকবে।

দর্শকদের হাহাকার(Messi in Kolkata)
হাওড়ার অনিন্দিতা বেরা ১৩ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। তাঁর মতো অনেকের কাছেই সেই টিকিট এখন একটা যন্ত্রণার স্মারক। অনিন্দিতার কথায়, “ভেবেছিলাম টাকাটা ফেরত পাব, কিন্তু যত দিন যাচ্ছে আশা ছেড়ে দিচ্ছি।” অনেকের কাছে এই টাকাটা ছিল মাসকাবারি খরচের বড় একটা অংশ, কারও কাছে হয়তো বহুদিনের সঞ্চয়। কিন্তু আজ তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।
Tollywood update: কৃষভির সাথে কিছু মিষ্টি মুহুর্ত কাঞ্চন ও শ্রীময়ীর@bengalliberty #kanchanmullick #sreemoyeechattoraj #TOLLYWOOD #tollywoodnews pic.twitter.com/RLe0BUWryv
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) February 14, 2026
যুবভারতীকাণ্ড প্রমাণ করে দিল যে, বড় মাপের ইভেন্ট আয়োজনে দায়বদ্ধতার অভাব থাকলে সাধারণ মানুষকেই বলির পাঁঠা হতে হয়। আইনের দীর্ঘসূত্রিতা আর প্রভাবশালীদের দাপটে চাপা পড়ে যায় সাধারণের চিৎকার। মেসি ম্যাজিক দেখতে এসে কলকাতার মানুষের ভাগ্যে জুটল কেবল একরাশ হতাশা আর পুলিশ-আদালতের চক্কর। প্রশ্ন একটাই— সাধারণ মানুষ কি আদৌ তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাবেন, নাকি এই ঘটনার স্মৃতিও সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যাবে?
আরও পড়ুন:
ভারত বনাম পাকিস্তান(India vs Pakistan): কলম্বোর মন্থর পিচে রণকৌশলের লড়াই, আবহাওয়া কি হবে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’?
