Kolkata Mid-Day Meal Crisis
Bengal Liberty Desk, ১২ মার্চ, কলকাতা:
সুদূর পশ্চিম এশিয়ার রণাঙ্গনের বারুদ-গন্ধ এবার বাঙালির হাড়িতে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন গ্যাস সঙ্কটে নাজেহাল দশা কলকাতার মিড-ডে মিল প্রকল্পের (Kolkata Mid-Day Meal Crisis)। ধর্মতলার এস. এন ব্যানার্জি রোডের রানী রাসমণি হাই স্কুল থেকে শুরু করে শহরের বহু নামী সরকারি স্কুলে দুপুরের মেনুতে বড়সড় বদল এসেছে। কোথাও ভাত-তরকারির বদলে পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কেবল সেদ্ধ ডিম, কোথাও আবার গ্যাসের সাশ্রয় করতে কোনওমতে খিচুড়ি ফুটিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

কমিউনিটি কিচেনে বিপত্তি! Kolkata Mid-Day Meal Crisis
কলকাতার অধিকাংশ স্কুলেই ভেতরে রান্না করার পরিকাঠামো নেই। মূলত বাগবাজার বা গড়িয়াহাটের মতো বিভিন্ন এলাকার ‘কমিউনিটি কিচেন’ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পড়ুয়ার খাবার তৈরি হয়ে স্কুলে পৌঁছায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের সিলিন্ডার অমিল। গড়িয়াহাটের একটি কমিউনিটি কিচেনের কর্মীরা জানিয়েছেন, সয়াবিনের তরকারি বা ডাল আলাদা করে রান্না করার মতো গ্যাস তাঁদের কাছে নেই। তাই গ্যাস বাঁচাতে চাল ও ডাল একসঙ্গে ফুটিয়ে খিচুড়ি নামানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় সিলিন্ডার না পেয়ে রান্নাই করা যায়নি; ফলে পড়ুয়াদের কেবল সেদ্ধ ডিম দিয়েই টিফিনের ছুটি হয়েছে।

হাহাকার উত্তর থেকে দক্ষিণে!
পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর কলকাতার প্রায় ৭০টি এবং দক্ষিণ কলকাতার অন্তত ১০০টি স্কুলে মিড-ডে মিল নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। গতকাল, মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও আজ, বুধবার থেকে সঙ্কট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বাগবাজারের একটি বড় কিচেন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শিশুর খাবার যায়। সেখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানাচ্ছেন, এখন যেটুকু মজুত আছে তা দিয়ে হয়তো আরও কিছুদিন চলবে, কিন্তু যুদ্ধের মেয়াদ বাড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।
প্রশাসনের কী নির্দেশ?
বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গতকাল, বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “কোনও ভাবেই মিড ডে মিল বন্ধ করা যাবে না। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্রটি কেমন তা জানাতে হবে কেন্দ্রকে।” পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসন থেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাঠ, কয়লা বা ডিজেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় বা হাই-রাইজ স্কুলে কাঠের উনুন জ্বালানো কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক মহলের একাংশ।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা!
রানী রাসমণি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসিন ইমাম জানিয়েছেন, অনেক দরিদ্র পড়ুয়ার সারাদিনের একমাত্র পুষ্টিকর আহার এই মিড-ডে মিল। সেখানে মেনু কাটছাঁট হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির মতে, এই সঙ্কট আগে থেকেই আন্দাজ করে সরকারের বিকল্প প্রস্তুতি রাখা উচিত ছিল।
