I-pack Hearing
Bengal Liberty , kolkata:
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের হস্তক্ষেপ কি ‘আইনের শাসন’ লঙ্ঘন নয়?(I-pack Hearing) আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠল। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডির দায়ের করা এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বল ইডির মামলা করার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। আইপ্যাক মামলার এদিনের শুনানি মুলতবি করা হয়। আগামী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ এপ্রিল।

সিব্বলের মূল যুক্তি I-pack Hearing
এদিন শুনানিতে সিব্বল দাবি করেন, ইডি কোনো ব্যক্তি বা স্বতন্ত্র সংস্থা নয়, বরং একটি সরকারি দপ্তর। তাই সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে ইডি সরাসরি মামলা করতে পারে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি মামলা করতে না পেরে ইডি-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
আদালতের পাল্টা প্রশ্ন
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে ভিন্ন সুর। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র সরাসরি প্রশ্ন করেন, “যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ করেন, তবে ইডি কার কাছে প্রতিকার চাইবে? তারা কি সেই রাজ্য সরকারের কাছেই যাবে যার প্রধান খোদ মুখ্যমন্ত্রী?” বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়াও মনে করিয়ে দেন যে, ‘আইনের শাসন’ (Rule of Law) রক্ষা করা আদালতের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
অভিযোগের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী
ইডির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের দাবি, আইপ্যাক-কাণ্ডে তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে নথি ও ল্যাপটপ সরিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্রীয় তদন্তের ওপর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূল বারবার কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বললেও, এই মামলায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আইনি লড়াইকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে মামলাটি পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানোর আর্জি জানানো হলেও, সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট যে-তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আদালত হালকাভাবে নিচ্ছে না।
