Ram Navami 2026
Bengal liberty desk, ২৭ মার্চ :
রাম নবমীর পুণ্যলগ্নে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সারা বিশ্ব (Ram Navami 2026)। শুক্রবার ঠিক দুপুর ১২টায় অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরে এক অভাবনীয় দৃশ্য ধরা পড়ল। আধুনিক বিজ্ঞানের নিখুঁত কারিগরি আর আধ্যাত্মিকতার মিলনে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহের কপালে স্বয়ং সূর্যদেব যেন এঁকে দিলেন তিলক। প্রায় চার মিনিট ধরে রামলালার ললাটে শোভা পেল সেই ভাস্বর ‘সূর্য তিলক’।

বিজ্ঞানের জাদুতে সূর্য তিলক:
ভারতীয় বিজ্ঞানীদের তৈরি একটি বিশেষ আয়না ও লেন্সের ব্যবস্থার মাধ্যমে সূর্যের রশ্মিকে সরাসরি গর্ভগৃহে থাকা রামলালার মূর্তির কপালে প্রতিফলিত করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের সেই তেজালো রশ্মি রামলালার ললাট স্পর্শ করে এবং একটি উজ্জ্বল বৃত্তাকার তিলক তৈরি করে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং আরতির মাঝেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত হাজার হাজার ভক্ত।
প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর উদযাপন:
রাম নবমীর এই বিশেষ মুহূর্তটি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দেশবাসীকে রাম নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে ভগবান শ্রীরামের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গোরক্ষপুরে এক সভায় জানান, শ্রীরামচন্দ্র ভারতীয় জীবনধারা ও আদর্শের এক চিরন্তন উৎস। অযোধ্যায় এই দিনটিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ ভক্ত সরযূ নদীতে স্নান সেরে মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন।

উৎসবের আবহে অযোধ্যা:
রাম নবমী উপলক্ষে গোটা অযোধ্যা নগরী সেজে উঠেছে রঙিন আলো ও ফুলে। ভোর ৪টে ৩০ মিনিটে মঙ্গলা আরতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর একে একে শৃঙ্খল আরতি ও শয়ান আরতির আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তদের ভিড় সামলাতে সারাদিন ধরে বিশেষ দর্শনের ব্যবস্থা করেছে মন্দির ট্রাস্ট। ভিআইপি দর্শন বন্ধ রেখে সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য সাতটি আলাদা স্লটে দর্শনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
রাম নবমীর মাহাত্ম্য:
চৈত্র নবরাত্রির নবম দিনে ভগবান রামচন্দ্রের মর্ত্যে আবির্ভাবকে স্মরণ করেই এই উৎসব পালিত হয়। দীর্ঘ নয় দিনের উপবাস শেষে ভক্তরা সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করে এই পুণ্যতিথি পালন করেন। রামায়ণ পাঠ, ভজন ও কীর্তনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সরযূ ঘাট থেকে শুরু করে হনুমান গড়ি ও কনক ভবন।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে সূর্য তিলকের এই বার্ষিক অনুষ্ঠানটি এখন থেকে প্রতি বছর রাম নবমীর দিনেই পালিত হবে। বিজ্ঞান ও ধর্মের এই সেতুবন্ধন যে নতুন ভারতের এক অনন্য প্রতীক, তা আজ আরও একবার প্রমাণিত হলো। শ্রীরামের এই দিব্য জ্যোতি দেশবাসীর মনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক, এখন সেই প্রার্থনাই করছেন ভক্তরা।
