Teacher assault allegation
Bengal Liberty Desk, ২৭ মার্চ, রানাঘাট: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক ভাটকর্মীকে নৃশংসভাবে মারধরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার রানাঘাট। ভোটকর্মীদের ট্রেনিং সেন্টারে দেখানো হচ্ছিল সরকারি বিজ্ঞাপন। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সরব হতেই বেধড়ক মারধর করা হয় কমিশনের ওই কর্মীকে। আজ, শুক্রবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রানাঘাট ১ নম্বর ব্লকের দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে। এই ঘটনার পরে ট্রেনিংয়ে আসা সমস্ত ভোটকর্মীরা ট্রেনিং বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বলে খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় (Rananghat Polling Training Violence)।
কী ঘটনা (Rananghat Polling Training Violence)?

এ দিন ওই স্কুলে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট কর্মীদের ট্রেনিং ছিল। ট্রেনিং শুরুর আগেই প্রজেক্টরে ভেসে ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর জগন্নাথ মন্দিরের সরকারি বিজ্ঞাপন। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন ট্রেনিংয়ে আসা ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়। আক্রান্ত ভোটকর্মী এবং প্রতক্ষ্যদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ভোটার ট্রেনিং সেন্টারে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে সৈকত বাবু আপত্তি জানান। সৈকত চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, নির্বাচন চলাকালীন সরকারি বা ট্রেনিং সেন্টারে এই ধরণের দলীয় প্রচার আদর্শ আচরণবিধির (MCC) পরিপন্থী। আরও কয়েকজন সহকর্মীও একই দাবিতে শামিল হন।
বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট ১ নম্বর বিডিও অফিসের কর্মীদের শুরু হয় বচসা। ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার ফলে তাঁর শরীর রক্তে ভিজে যায়। অভিযোগ, মারধরের পর তাঁকে শাসানো হয় যে ট্রেনিং সেন্টারের বাইরে পা রাখলে তাঁকে চরম পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
তাঁর বক্তব্য, ‘আমি বলেছিলাম, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছেন কেন? প্রতিবাদ করতে মারধর করা হয়। যদি ভোট কর্মীদের উপরে এরকম আক্রমণ নেমে আসে নির্বাচনের সময় তা হলে কী হতে পারে? তাদের নিরাপত্তা কোথায়?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (Rananghat Polling Training Violence)

বিষয়টি নিয়ে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘একজন ভোটকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এর পরেও নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, এই সরকারকে গদিতে রেখে সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন করবে, সেটা সম্ভব নয়।’ কমিশনকে এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ভিডিয়ো পোস্ট করে সরব শুভেন্দু (Rananghat Polling Training Violence)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। নিজের সামাজিক মাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের আমলে শিক্ষক, চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ—কেউই নিরাপদ নন। এমনকি নির্বাচনী ডিউটি করতে আসা শিক্ষকদের ওপর এই হামলা প্রমাণ করে যে রাজ্যে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। বিডিও অফিসের কর্মীদের এই ধরণের আচরণে স্পষ্ট যে প্রশাসনের একাংশ সরাসরি শাসকদলের হয়ে কাজ করছে।
আরও পড়ুন-
BJP rally Bhabanipur: ভবানীপুরে ‘রাম’ নামে গেরুয়া ঝড়, শুভেন্দুর মিছিলে জনস্রোত ! চাপে শাসক শিবির?
BJP Ram Navami rally: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর ‘মেগা শো’, আসানসোল থেকে হাওড়া – জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মুখরিত বাংলা
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় পশ্চিমবঙ্গ একটি অরাজক রাজ্যে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রশ্ন তুললেই জুটছে মারধর। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করে মারধর ও খুনের চেষ্টার ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
ট্রেনিং সেন্টারে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি এল এবং সরকারি কর্মীরা কেন মারধরে লিপ্ত হলেন, তার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
