Mamata Abhishek INDIA Alliance
Bengal Liberty: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। একে একে দল ছাড়তে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতারা (Mamata Abhishek INDIA Alliance)। গত ১৫ বছর ধরে দুর্নীতিতে প্রশ্রয় পাওয়া নেতাদের গ্রেফতারি শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে এবার খড়কুটোর মতো ইন্ডি জোটকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৮ জুন ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে অংশ নিতে চলেছেন তাঁরা। তারা দুজনেই দিল্লিতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে খবর।
Adhhir on TMC: তৃণমূলের ভবিষ্যৎ বললেন অধীর | Bengal Liberty@adhirrcinc @AITCofficial #TMCWestBengal #adhirranjanchaudhry #TMCNews #TMCMLA #BengalLiberty pic.twitter.com/7R9rDbhUuS
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) June 1, 2026
তৃণমূলের একাংশের মতে, ইন্ডি জোটের বৈঠকে উপস্থিত থেকে পিসি-ভাইপো বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। কারণ, বাংলার পরাজয়ের প্রতিশোধ তিনি জাতীয় রাজনীতি মারফত তুলতে চান। তবে জাতীয় রাজনীতির কারবারিদের মতে, বাংলার মসনদ হারিয়ে কার্যত রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন মমতা। যেভাবে ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চ্যালেঞ্জ নিয়ে মমতাকে পরাস্ত করেছেন, তাতে জাতীয় রাজনীতিতে মমতার ভাবমূর্তি মলিন হয়ে গিয়েছে। তাই এখন কোনও উপায় না পেয়ে ইন্ডি জোটকে খড়কুটোর মতো মত আঁকড়ে ধরতে চাইছেন তারা।

ইন্ডি জোটে মমতার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন (Mamata Abhishek INDIA Alliance)
এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, পিসি ভাইপো জুটি দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রাসঙ্গিক হবে? রাজ্যের রাজ্যে আঞ্চলিক দলের পরাজয় কিছুটা হলেও বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে ইন্ডি জোটের বড় শরিক কংগ্রেস। তাই তৃণমূল যখন রাজ্যে বিপদে পড়েছে সেক্ষেত্রে কংগ্রেস তাদের কতটা রাজনৈতিক জমি ছাড়বে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
কারণ ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গঠনের পর থেকেই মমতা লাগাতার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অধীর চৌধুরী ও শুভঙ্কর সরকাররা চাইবেন তৃণমূলের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাজ্যে কংগ্রেসের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে। তাই ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে গেলেও, মমতা অভিষেক জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রাসঙ্গিক হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

জাতীয় মঞ্চে প্রাসঙ্গিকতা ফেরাতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব (Mamata Abhishek INDIA Alliance)
কারণ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দল ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিষেক মমতা। এমনকি দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতার ডাকা বৈঠকে হাজির হচ্ছেন না দলের একগুচ্ছ বিধায়ক। আবার তারাই নাকি রাজ্যের এমএলএ হোস্টেলে বসে বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বদলে, নতুন কোনও বিধায়ককে তাদের দলনেতা নির্বাচন করার পথে। তাই ঘরে বাইরে এমন ডামাডোল পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলে একাংশ।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকাকালীন ইন্ডি জোটকে মান্যতা দেননি মমতা। কংগ্রেস ও সিপিএমকে বাদ দিয়েই ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে লড়াই করেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই একই কৌশলে লড়াই করে ধরাশায়ী হয়েছেন মমতা। আবার পশ্চিমবঙ্গে মমতার হাত ধরে চলতে বিস্তর আপত্তি রয়েছে সিপিএম সহ বাম দলগুলির। তাই মমতা-অভিষেকের দিল্লি যাত্রা সুখকর নাও হতে পারে, এমনটাই মত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কারবারীদের।

