Janatar Dorbar
Bengal Liberty:
তৃতীয়বার জনতার দরবারে জনগণের কথা শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী (Janatar Darbar। আজ, সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে বসেছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য। অসহায় প্রতিবন্ধীর ব্যাটারি গাড়ির আবদার পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেদন করেও মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। শেষ আশায় এসেছিল জনতার দরবারে। নিরাশা করলেন না শুভেন্দু অধিকারী। কথা দিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই মিলবে ব্যাটারি চালিত গাড়ি। রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ জনগণের অসুবিধা অভিযোগ শুনতে অঙ্গীকার হয়েছেন।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর সাহস সাধারণ মানুষের দুঃসাধ্য ছিল। এমনকি নিজেদের পার্টির বিধায়করা কোনদিন সুযোগ পায়নি কথা বলার। কিন্তু সেই ভ্রান্ত ধারণা বন্ধ করে মানুষের দরবারে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ব্যাটারি চালিত গাড়ি আবেদন Janatar Darbar
গোসাবার সন্ন্যাসী মন্ডল, সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী। সহধর্মিনীর কাঁধে চেপে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে। বহু আবেদন করেও মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। আজ, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন একটি ব্যাটারি চালিত গাড়ির জন্য। সেই অনুরোধ রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই পেয়ে যাবে ব্যাটারি চালিত গাড়ি। মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সহযোগিতা পেয়ে খুশি সন্ন্যাসী মন্ডল ও তার স্ত্রী। আশা রেখেছেন, এবারে হয়ত একা চলতে পারবে স্ত্রীর ভরসায় না থেকে।

জমি সংক্রান্ত সমস্যা
তৃণমূলের আমলে নিজেদের জমি হারিয়েছিলেন সিউড়ী এক বৃদ্ধ দম্পতি। শতচেষ্টার পরেও জমি দিতে রাজি হয়নি তৎকালীন বিধায়ক। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে জমি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন তারা। বহুবার আবেদন করে, দরজায় দরজায় ঘুরেও কোন সুরাহা হয়নি। জমি রেজিস্ট্রেশনের আশায় সুদূর থেকে হাজির হয়েছিলেন। ভীষণ আশাবাদী! মুখ্যমন্ত্রী তাদের ফেরাবেন না।
.
#WATCH | Hooghly: West Bengal CM Suvendu Adhikari offers prayers at Taraknath Temple in Tarakeswar, Hooghly. pic.twitter.com/DrHgEaZdJ3
— ANI (@ANI) June 2, 2026
দরবারে শিল্পীমহল
শিল্পী মহল থেকেও জমায়েত হতে দেখা গেছে। ইন্দ্রনীল সেন এর ব্যান কালচারে কাজ পেতেন না বহু শিল্পী। তাদের দাবি, ” আমাদের কণ্ঠ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। নন্দন ও রবীন্দ্রসদনের মতো জায়গায় সিন্ডিকেট কালচার চলছে। আমাদের মঞ্চ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ” তবে আজ তাদের ভরসা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন করে তাদের নিয়ে ভাববেন এবং শিল্পীরা আবারও কাজে ফিরতে পারবে, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।
মৃত তপন দত্তের স্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে মৃত তপন দত্তের স্ত্রী। তাকে বহুবার জানানো হয়েছিল টাকা নিয়ে লড়াই বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু রাজি হননি মৃতের স্ত্রী। তিনি জানান, ” আমাকে বহু বার অফার করেছিল টাকা নিয়ে কেস থামিয়ে দিতে। কিন্তু আমি তা করিনি। আমি বলেছিলাম লড়াই চালিয়ে যাব। অপরাধীর শাস্তি চাই। সিবিআই তদন্ত পেলেও তা ভীষণ দেরিতে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, সিবিআই তদন্ত যেন তাড়াতাড়ি হয়, অপরাধী যেন ন্যায্য বিচার পায়।
এই নিয়ে তৃতীয়বার জনতার দরবারে উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে রাজ্যের সকল মানুষের সমস্যা সমাধান করবেন, আশায় রাজ্যবাসী।


