TMC Logo
Bengal Liberty, ৪ জুন :
চুরি করা গাম্ভীর্য কতদিনই বা ধরে রাখতে পারতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC Logo) ! কথায় আছে “পাপ বাপকেও ছাড়ে না”- কথাটা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৈরি হয়েছিল দলটা। তৃণমূলের এই ২৮ বছর বয়সী লোগোর নির্ণায়ক তুলিকা আর্ট এন্ড কালচারের প্রতিষ্ঠাতা সোমনাথ চৌধুরী। তাঁর কথা অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে অজিত পাঁজার অনুরোধে আঁকা এই লোগো সারা ভারতবর্ষে চর্চিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যে বাতেলা দিয়ে নিজের বানানো বলে চালিয়ে দিয়েছিল এই প্রতীক। সেদিন সোমনাথের না বলা কষ্ট কি মাঠে মারা যেত? এখন মমতার দেখান পথেই পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরে বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নব্য বিরোধী দলনেতা মমতাকে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অফার দিয়েছেন। এখন মমতার আড়ে মরণ, তারেও মরণ। কী কী পথ খোলা আছে তাঁর কাছে (TMC Logo)?

আইনি পথে হাঁটলে হারাতে হতে পারে দলের প্রতীক (TMC Logo)
মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছেন অভিজ্ঞ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। ৫৮ জন বিধায়কের বদান্যতায় স্পিকার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ঋতব্রতকে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা আদালতের দ্বারস্থ হলে স্পিকারের সিদ্ধান্ত আদালত বদলালেও বদলাতে পারে। কিংবা যাঁরা যাঁরা ঋতব্রতর দলে নাম লিখেছেন তাঁদের বহিষ্কার করতে পারেন মমতা। সেক্ষেত্রে তৃণমূল পরিষদীয় দলের বিধায়ক সংখ্যা কমে হবে ২০। মমতার দল প্রধান বিরোধী দলের আসন হারাবেন। তখনই শুরু হবে শখের প্রতীক হারানোর আশঙ্কা। বিদ্রোহীরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে দলের প্রতীক এবং নামের অধিকার চাইতে হবে। সেক্ষেত্রে শুরু হবে দীর্ঘ আইনি লড়াই।

শুরু হবে আসল তৃণমূল প্রমাণের খেলা (TMC Logo)
মমতার বানানো দল তৃণমূলের মধ্যেই তাঁকে এবং তাঁর ভাইপোকে আসল তৃণমূল হওয়ার পরীক্ষা দিতে হতে পারে। ২০ জন বিধায়ককে নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের তকমা হারালেই ঋতব্রতরা নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারে। সেখানেই শুরু হবে আসল দল ভাঙার খেলা। সেই মুহূর্তে শুধু বিধায়করা নন ডাক পরবে সাংসদ এবং অন্যান্যদেরও। বিধায়কদের ভাগ হওয়ার ভাইরাস যদি সংসদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে তাহলে মমতার প্রতীক বাঁচানোর সব রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাবে।

সমঝোতা করলে দল বাঁচবে, কিন্তু ইগো? (TMC Logo)
সমঝোতায় সব হয়! মমতা যদি চান ঋতব্রতর সঙ্গে সমঝোতা করতে পারেন। “ইগো” পাশে রেখে তাঁদের সঙ্গে মিলেমিশে এক চালার নিচে নিয়ে আসতে পারেন। তবে একটা কথা স্পষ্ট এই ভাঙনের কারিগর মমতা বননন। বলাই বহুল্য, দল ভাঙার কান্ডারী ভাইপোকে দল থেকে সরালেও পুরোনো হাল ফেরত পেতে পারেন মমতা। কিন্তু না! হাঁটুর বয়সী ছেলের কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কি আদৌ মাথা নত করতে সম্মত হবেন? আবার পরিবারের লোক এবং দলের লোককে বিদ্রোহী সেনাদের জন্য দল থেকে সরানোর কথা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করবেন না। তাই উপায় আসলেই কিছু নেই। এখন দেখার সাজানো সংসার নীরব দর্শকের মতো দেখবেন নাকি উঠে দাঁড়িয়ে দলের ক্যান্সারকে বাদ দেবেন?


