Abhisekh Banerjee
Abhisekh Banerjee

Abhisekh Banerjee Letter: দল ভাঙতে কামারের ঘা অভিষেকের! সটান স্পিকারকে চিঠি

Bengal Liberty: 

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সম্ভাব্য ভাঙন রুখতে এবং দলের রাশ শক্ত রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যখন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের বৈঠক চলছে, ঠিক সেই সময়ই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন তিনি (Abhisekh Banerjee Letter)। লোকসভায় তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কোনো গোষ্ঠীকে যাতে কোনোভাবেই ‘বিদ্রোহী দল’ বা পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া না হয়, চিঠিতে সেই আর্জিই জানিয়েছেন অভিষেক।

Abhisekh Banerjee Letter
Abhisekh Banerjee Letter

তৃণমূলের মূল শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) একটি অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। দলের ভাঙনকালে কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী যাতে আইনি বা রাজনৈতিক মর্যাদা না পায়, তা নিশ্চিত করতেই স্পিকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ স্বয়ং স্পিকারের দপ্তরে গিয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেন।

Abhisekh Banerjee Letter
Abhisekh Banerjee Letter

চিঠিতে যা লিখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় Abhisekh Banerjee Letter

স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন: “তৃণমূল কংগ্রেস একটি অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। অন্য কোনো পৃথক গোষ্ঠীকে মর্যাদা না দিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে (AITC) একক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। মূল দল ছাড়া দ্বিতীয় কোনো গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তকে যেন সম্মতি দেওয়া না হয়। লোকসভায় তৃণমূলের একজনই দলনেতা এবং একজনই মুখ্য সচেতক (হুইপ) রয়েছেন। কোনো সদস্য বা গোষ্ঠী নিজের ইচ্ছামতো দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘উপদল’ গঠন করে আলাদা স্বীকৃতির দাবি করতে পারে না।”

advertisement
advertisement

সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সংবিধানের ঢাল

একদিকে যখন বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠনের জন্য বৈঠক করছেন, অন্যদিকে তখন পাল্টা আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিল তৃণমূলের মূল শিবির। চিঠিতে ২০২৩ সালের একটি ঐতিহাসিক মামলার রায়কে হাতিয়ার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ‘সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল (প্রধান সচিব)’ [INSC 516 (AIR 2023 SC 2406), রিট পিটিশন (সিভিল) নম্বর ৪৯৩/২০২২] মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কেবল দল ভাঙার ভিত্তিতে আলাদা উপদলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সংবিধানের দশম তফসিলের (Ten Schedule) ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, স্পিকারের কেবল মূল রাজনৈতিক দলটিকেই মান্যতা দেওয়া উচিত, কোনো উপদল বা বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে নয়। তৃণমূলের পক্ষে জানানো হয়েছে, সমান্তরাল রাজনৈতিক দল গঠন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে ওই অনুচ্ছেদ অনুসারেই, যদি কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ (তৃণমূলের বর্তমান আসন সংখ্যা অনুযায়ী যা ৩০ জন) একসঙ্গে দল ছাড়েন, তবেই নতুন দল গঠন বা অন্য দলে বিলীন হওয়া সম্ভব। বর্তমান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে সেই সংখ্যা নেই।

Abhisekh banerjee
Abhisekh banerjee

আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

স্পিকারের দপ্তরে চিঠি জমা দিয়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ। তাঁরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি লোকসভায় কোনো বিদ্রোহী বা বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে বেআইনিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে এবং তা তীব্র আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চিঠির পর জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—স্পিকারের চিঠির পর বিদ্রোহী সাংসদরা কি আদৌ কোনো পৃথক স্বীকৃতি পাবেন, নাকি তৃণমূলের অন্দরের এই ফাটল আইনি লড়াইয়ের রূপ নেবে?

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury