Swapan Dasgupta
Bengal Liberty:
শিল্প ও বিনিয়োগে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পিছিয়ে পড়া পশ্চিমবঙ্গকে ফের দেশের বাণিজ্য ও শিল্পের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিল রাজ্য সরকার (Swapan Dasgupta)। শুক্রবার এক বাণিজ্য সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “Bengal is Back… Back with a Bang.” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়া রাজ্যের শিল্পনীতি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের পরিকাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বেঙ্গল ইস ব্যাক… ব্যাক উইথ এ ব্যাং
অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের একাধিক ঘোষণা করা হলেও তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে গত পনেরো বছরে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু রাজ্যের প্রকৃত ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হলেন উদ্যোক্তারাই। পাশাপাশি, শিল্পমহলের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট (জমি সিলিং আইন) সরলীকরণেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিনের সম্মেলনে বাংলায় একাধিক দেশি-বিদেশি সংস্থা নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস পুজোর আগেই প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছে বলে জানানো হয়। এছাড়া L&T রাজ্যে ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেগা ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানায়, যার ফলে বহু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি PwC এবং পিয়ারলেস-সহ আরও কয়েকটি সংস্থাও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও এদিন উঠে আসে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, পূর্ববর্তী সরকারের ঘোষণার তুলনায় বর্তমান সরকার বাস্তবায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে পুনরায় দেশের অন্যতম শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আগামী দিনে ঘোষিত প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার ফলে রাজ্যের শিল্প ও অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।


