West Bengal Assembly
Bengal Liberty
ক্ষমতার পালাবদলে বদলেছে বিধানসভার(West Bengal Assembly) আসনবিন্যাস। আগে যাঁরা বিরোধী ছিলেন, তাঁরা এখন শাসকদলের বেঞ্চে; আর প্রাক্তন শাসকরা বসেছেন বিরোধী আসনে। কিন্তু সরকার বদলালেও বদলায়নি বিধায়কদের পুরনো অভ্যাস। নিজের বক্তব্য শেষ করেই সদন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ফের প্রকাশ্যে এলো। পর্যটন দফতরের বাজেট বিতর্ক চলাকালীন শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি দেখে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন অধ্যক্ষ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “এই সংস্কৃতি আর চলবে না।”

স্পিকারের কড়া ভর্ৎসনা(West Bengal Assembly)
পর্যটন দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনা চলাকালীন দেখা যায়, বক্তার তালিকায় থাকা একাধিক বিধায়ক নিজের বক্তব্য শেষ করেই কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, “আপনারা নিঃসন্দেহে খুব ভালো বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু বক্তব্য রাখার পর আপনারা যেমন আশা করেন যে তা অন্য সকলে শুনুক, ঠিক তেমনই আপনার পরে যাঁরা বক্তব্য রাখছেন, তাঁরাও আশা করেন তাঁদের বক্তব্য আপনারা শুনবেন।” এরপর তিনি আক্ষেপের সঙ্গে যোগ করেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক! অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বক্তারা বক্তব্য রেখেই চলে যাচ্ছেন।”

সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অধ্যক্ষ(West Bengal Assembly)
স্পিকার এ দিন বিধায়ক আলিফা আহমেদ, সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় ও অসীম বিশ্বাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পাশাপাশি নবনির্বাচিত বিধায়কদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৮১ জন নতুন বিধায়ক এবার জয়ী হয়ে এসেছেন। এখানে যাঁরা বক্তব্য রাখছেন, তাঁদের কাছ থেকে এই নতুনদের অনেক কিছু শেখার আছে। কিন্তু আমরা কি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি?” মন্ত্রীর জবাবি ভাষণ শোনাকালের আগে অনেকেই কক্ষ ত্যাগ করছেন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে রথীন্দ্র বোস স্পষ্ট বার্তা দেন

“এই সব অভ্যাস আগামী দিনে আমাদের পরিবর্তন করতেই হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার বদলালেও বিধানসভার এই পুরনো সংস্কৃতির কোনো বদল হয়নি, বৃহস্পতিবারের ঘটনাই তার প্রমাণ। তবে স্পিকারের এই কড়া অবস্থানের পর কি সত্যিই এই রেওয়াজ বদলাবে? উত্তর লুকিয়ে ভবিষ্যতের দিনগুলোতেই।

