Bengal Liberty : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে (Naushad Siddiqui)। তাঁর বক্তব্যকে ‘নেতাজির অপমান’ আখ্যা দিয়ে এবার বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব জমা দিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সূত্রের খবর, বিরোধীদের পাশাপাশি বিজেপির একাংশও প্রকাশ্যে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। এবার সেই আগুনে পড়ল ঘি!বিতর্কের আবহেই নিন্দা প্রস্তাব জমা দিলেন নওশাদ (Naushad Siddiqui)।

কী বলেছিলেন অনন্ত মহারাজ? (Naushad Siddiqui)
একাধিক মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে-এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকাও ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন।” এখানেই থেমে না থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়েও বিতর্কিত দাবি করেন তিনি। অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, “জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়।” এরপর তিনি আরও বলেন, “নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন।”

ব্রিটিশ শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তাহলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল।” এছাড়াও তাঁর দাবি, “কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হতো, তবে দেশভাগ হতো না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।” এই ধারাবাহিক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নেতাজির ভূমিকা নিয়ে এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলি বিজেপিকে নিশানা করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির একাংশও প্রকাশ্যে অনন্ত মহারাজের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে নেতাজিকে অপমানের অভিযোগ তুলে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব জমা দেওয়া রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরও খবর
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/02/netaji-subhash-chandra-bose/


