Bengal Liberty: দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা বিধানসভা এলাকা। সুন্দরবন অঞ্চলের শেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম গোসাবা। কলকাতা থেকে যার দূরত্ব মেরেকেটে ৮৮ কিলোমিটার। অভিযোগ, একসময় গোটা এলাকাজুড়েই কার্যত ‘তৃণমূল-রাজ’ চলত (Gosaba)। নেতৃত্বে ছিলেন গোসাবা বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত মণ্ডল। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পুঁতে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে ।
কী ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে এই এলাকার মানুষজন দিন কাটিয়েছেন, তা জানলে শিউরে উঠতে হয়। অভিযোগ, শুধুমাত্র বিজেপি সমর্থক হওয়ার ‘অপরাধে’ বহু মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়েছে। যার মাশুল গুনতে হয়েছে গোটা পরিবারকে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি-সহ এলাকার একাধিক কর্মী-সমর্থকের বাড়িতে সাদা থান পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ মণ্ডল, বিপ্লব মণ্ডল, ভগীরথ মণ্ডলদের বিরুদ্ধে।

পালাবদলের পরও আতঙ্ক কাটেনি, নিরাপত্তার দাবিতে সরব গ্রামবাসী (Gosaba)
অভিযোগ, এতেই ক্ষান্ত থাকেনি তৃণমূলের ওই কর্মী-সমর্থকেরা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে জেসিবি দিয়ে গর্ত তৈরি করে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি গ্রামবাসীদের। এমনকি, কেউ যাতে গ্রাম ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য ৪ মে এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ফেরিঘাট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের বিরুদ্ধে।
আরও খবর
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, গ্রামের অবিবাহিত মেয়েরাও ওই দুষ্কৃতীদের ভয়ে বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পেতেন (Gosaba)। নির্বাচন এলেই প্রাণভয়ে ঘরের মধ্যে সিঁধিয়ে থাকতেন এলাকার মানুষ। কারণ, তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের দাপট চলত গোটা এলাকায়।
শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীদের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য লাঠি কেটে তাতে পেরেক পুঁতে রাখা হয়েছে বলে ভয় দেখানো হয়। তালিকা মিলিয়ে একে একে তাঁদের মেরে গ্রামের প্রান্তে আগে থেকে কেটে রাখা সাতটি গর্তে পুঁতে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আর্ত গলায় এক বৃদ্ধার দাবি, “যদি ওরা জিতে যেত, আমাদের আর জীবিত রাখত না।” তাঁর আরও অভিযোগ, জায়গা-জমি, মাছের ভেড়ি—সবই তৃণমূলের লোকজন দখল করে নিয়েছিল। এমনকি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূলের উন্নয়নের প্রচার যে নদী পেরিয়ে এই মানুষগুলির কাছে পৌঁছয়নি, গোসাবার পরিস্থিতি দেখলেই তা স্পষ্ট বলে দাবি স্থানীয়দের।

রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখনও পুরোপুরি কাটেনি আতঙ্ক। ওই বাহিনীর দাপট কিছুটা কমলেও তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি বলে দাবি তাঁদের। এখনও প্রতিটি মুহূর্ত ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গোসাবা বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের চোখে-মুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। এই অসহায় মানুষগুলির এখন একটাই দাবি—নিরাপত্তা (Gosaba TMC Leader)।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অত্যাচার, তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার দম্ভে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর মানুষ শুধু নিরাপত্তা চেয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু পালাবদলের পরও গোসাবায় কীভাবে তৃণমূল শাসনের ‘ছায়া’ রয়ে গিয়েছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ
https://bengalliberty.com/2026/08/11/sushil-kumar-2/


