Bengal Liberty
ইরানের(Us Iran) সঙ্গে যুদ্ধের পাঁচ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌসেনাদের জীবন নিয়েই এবার উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। বিশেষ করে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে থাকায় তাঁদের খাবার, জল, স্বাস্থ্য এবং মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

২০০ দিনেরও বেশি সমুদ্রে(Us Iran)
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সান দিয়েগো ছাড়ে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। এরপর ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। দীর্ঘ এই মোতায়েনের মধ্যে রণতরীটি ২০০ দিনেরও বেশি সময় টানা সমুদ্রে কাটিয়েছে। সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েনের মেয়াদ ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বন্দরে না ঢোকার কারণে সেনাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। খাবারের মান, পানীয় জল, শৌচাগার, লন্ড্রি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে।
খাবার-জল নিয়ে তীব্র অভিযোগ(Us Iran)
সামরিক পরিবারের সদস্যদের দাবি, জাহাজে খাবারের পরিমাণ ও মান নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পানীয় জলের ঘাটতি, প্লাম্বিংয়ের সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী খাবারের ঘাটতির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জাহাজে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। অর্থাৎ একদিকে পরিবারের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি—দুইয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
আরও খবর
মানসিক চাপও বাড়ছে(Us Iran)
শুধু খাবার বা জল নয়, দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার ফলে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ যুদ্ধ, অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তনের সময়সীমা এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে নাবিকদের মধ্যে প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত।
ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক(Us Iran)
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প কার্যত সেই উদ্বেগকে খারিজ করে বলেন, রণতরীটির এই মোতায়েন “যথেষ্ট দীর্ঘ হয়নি”। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভ বাড়ছে সেনাদের পরিবার এবং বিরোধী মহলে। তাঁদের প্রশ্ন, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হলেও তার মূল্য কি শেষ পর্যন্ত দিতে হচ্ছে সেনাদের?

তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে সমুদ্রে থাকা হাজার হাজার মার্কিন সেনার ভবিষ্যৎ কী? খাবার, জল, বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলি যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়েই কি নতুন করে ভাবতে হবে? ইরান যুদ্ধের পরিণতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে কি না, নাকি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—সেই প্রশ্নেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



