Bengal Liberty
রামপুরহাটের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি প্রয়াত নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি জীবনের শেষ দিকে তাঁর উপর তৈরি হওয়া ‘মানসিক চাপ’ এবং ‘হয়রানি’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন।

মমতার আবেগঘন স্মৃতিচারণ Mamata Banerjee
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। শিক্ষকতা ও সমাজসেবার পাশাপাশি রামপুরহাট ও বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বিনয়ী স্বভাবের জন্যও আশিসবাবু পরিচিত ছিলেন বলে জানান মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পাঁচবারের বিধায়ক, প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার এবং চেয়ারম্যান হিসেবে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ জনসেবার পরেও তাঁকে বারবার ‘কলঙ্কিত’, ‘মিথ্যা অভিযোগে বিদ্ধ’ এবং ‘নিরন্তর চাপের’ মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।

তিনি আরও লেখেন, “এই ট্র্যাজেডিকে আরও বেশি বেদনাদায়ক করে তুলেছে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলিতে সহ্য করা তীব্র মানসিক চাপ।” রাজনৈতিক শত্রুতার মানবিক মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে প্রয়াত নেতার পরিবার, প্রিয়জন, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং অসংখ্য গুণমুগ্ধের প্রতি সমবেদনা জানান মমতা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়াত নেতার স্ত্রী, দিদি এবং ৮৪ বছর বয়সি দুই দাদার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
আরও খবর

পুরনো রাজনৈতিক দিনের স্মৃতিচারণাও করেন শুভেন্দু। ২০০৬ সালে বিধানসভায় তাঁরা যখন হাতেগোনা কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক ছিলেন, তখন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের মধ্যে ছিলেন বলে জানান তিনি। মার্জিত, শিক্ষিত এবং সৎ রাজনীতিক হিসেবে আশিসবাবুর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার কথাও উল্লেখ করেন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর মৃত্যু ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্বে তাঁর উপর কোনও ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।


