Bengal Liberty
তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডের পর বড় পদক্ষেপ রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসনের (Shankar Ghosh)। চণ্ডীপুর এলাকার ১৫টি হোটেল ও লজ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট হোটেল ও লজগুলিকে নোটিস পাঠানোর কথা জানিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমা আধিকারিক রাঠৌর অশ্বিন বাবু সিং। প্রশাসনের দাবি, ওই হোটেল-লজগুলির একাধিক ক্ষেত্রে ফায়ার লাইসেন্স না থাকা, বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত সমস্যা-সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, ” আমাদের দিকে থেকে বিভিন্ন ধরনের গাইডলাইন তৈরি করে এবং সেটার ইমপ্লিমেন্টেশন বা এক্সিকিউটিং এজেন্সি তো লোকাল গভর্নমেন্ট সাধারণভাবে হবে ”

পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বার্তা
সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটন মন্ত্রী জানিয়েছেন, ” যেহেতু তারাপীঠ একটা পর্যটক কেন্দ্র হিসাবে রয়েছে, এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটা অস্বাভাবিক ভাবে ঘটেছে। যদিও আমাদের তরফ থেকে ফায়ার লাইসেন্স ইত্যাদি দেওয়া হয় না, কিন্তু এটাকে ওরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং প্রতিটি পর্যটক কেন্দ্রে যেহেতু হোটেল ইত্যাদি রয়েছে, আমাদের দিকে থেকে বিভিন্ন ধরনের গাইডলাইন তৈরি করে এবং সেটার ইমপ্লিমেন্টেশন বা এক্সিকিউটিং এজেন্সি তো লোকাল গভর্নমেন্ট সাধারণভাবে হবে বা ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তাদের কাছেও পৌঁছানো হবে।”
আরও খবর

পূর্বেও একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও জবাব মেলেনি। তারাপীঠের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার আগে সোমবার তারাপীঠের হোটেল মালিক সমিতির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনের দেওয়া তালিকায় থাকা ১৫টি হোটেল ও লজ হল—
১. আদর্শ হোটেল
২. নকুল চন্দ্র লজ
৩. শৈলেন ভবন
৪. গীতশ্রী গেস্ট হাউস
৫. হরে কৃষ্ণ ভবন
৬. গিরিধারী ভবন
৭. বীরভূম লজ
৮. ভোলানাথ ভবন
৯. হোটেল দেব
১০. আনন্দ ভবন
১১. স্বস্তিক নিবাস হোটেল অ্যান্ড লজ
১২. তপতী লজ
১৩. সন্দীপ লজ
১৪. কেশরী লজ
১৫. দত্ত ভবন
সোমবার ভোরে তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় হোটেল মালিক এবং তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠের হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেই আবহেই ১৫টি হোটেল-লজ বন্ধের নির্দেশ দিল মহকুমা প্রশাসন।


