Bengal Liberty: তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। যে দমকল অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই হোটেলটিকে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। পাশাপাশি, অগ্নিপ্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তারাপীঠের ১৫টি হোটেল অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস ধরানো হয়েছে।
দমকল অফিসারের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ (Tarapith Hotel Fire)
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারাপীঠের ওই নির্দিষ্ট হোটেলটির ফায়ার অডিট করে দমকলের যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল, তার দায়িত্বে ছিলেন স্টেশন অফিসার অভয় চৌধুরী। বর্তমানে তিনি সাঁইথিয়ায় পোস্টেট থাকলেও, তাঁর দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই হোটেলকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, এনওসি (NOC) বা ফায়ার সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং এর নেপথ্যে কাদের গাফিলতি রয়েছে, তা নিয়ে আরও গভীরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

১৫টি হোটেল বন্ধের কড়া নির্দেশ (Tarapith Hotel Fire)
সোমবারের ওই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত হোটেল রমরমিয়ে চলছিল, সেগুলির তালিকা তৈরি করে প্রশাসন। বুধবার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ আধিকারিকেরা সরাসরি ওই হোটেলগুলিতে গিয়ে হাজির হন। হোটেল মালিক বা ম্যানেজারদের হাতে কড়া ভাষায় ক্লোজার নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আরও খবর
প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ- আজকের মধ্যেই হোটেলগুলি সম্পূর্ণ খালি করে ফেলতে হবে।হোটেলের ভেতরে থাকা অতিথিদের বিকল্প জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম ও রিকোয়ারমেন্ট ঠিক না করা পর্যন্ত হোটেলগুলি আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।
জানা গেছে, বন্ধের নির্দেশ দেওয়া এই ১৫টি হোটেলের তালিকায় একটি হোটেলের মালিক আবার শাসক দলের এক জেলা পরিষদের সদস্যও বটে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব না দেখে প্রশাসনিক নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

মামলার আপডেট ও আদালতের নির্দেশ (Tarapith Hotel Fire)
গত সোমবার ভোরে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডের পরই হোটেলটির মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে কল্যাণ আশিস পালকে গ্রেফতার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও, আদালত ধৃত দু’জনকেই ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পরপর দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নবান্ন থেকে নিরাপত্তা ও ফায়ার অডিটের বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারাপীঠের এই ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ
https://bengalliberty.com/2026/08/19/pakistan-political-reform/


