Bengal Liberty: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। দলের দাবি, এলাকার ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থী একের পর এক বুথে ঢুকে ছাপ্পা ভোট দিয়েছেন। শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণ এবং শুক্রবারের নির্ধারিত ভোটগণনা অবিলম্বে স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছে কংগ্রেস। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বহরমপুর জেলা কংগ্রেস ভবনে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা রেজিনগর উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী। সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচনের দিনের একটি ভিডিয়ো ফুটেজও প্রকাশ্যে আনে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

সেই ভিডিয়ো দেখিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এলাকার স্থানীয় ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও একাধিক বুথে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, সেখানে তিনি ছাপ্পা ভোটেও অংশ নেন। পুলিশের মদত এবং স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোটা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
আরও খবর
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রেজিনগরের ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন করানোর দাবি জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন আব্দুল্লাহিল কাফি। কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে শুক্রবারের নির্ধারিত ভোটগণনা স্থগিত রাখার পাশাপাশি নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এখন কমিশন এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
তবে কংগ্রেসের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাঁর দাবি, “ইভিএমের টেকনিক্যাল ত্রুটি নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছিল। খবর পেয়ে আমি মেশিনটি ঠিক ভাবে কাজ করছে কি না, তা দেখতে গিয়েছিলাম। ভোট দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
ফলে একদিকে কংগ্রেসের ভোট বাতিলের দাবি, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর পাল্টা অভিযোগ খারিজ—রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


