Bengal Liberty: বারুইপুর থেকে ব্যাঙ্কশাল, চন্দননগর থেকে শালবনি। একের পর এক আদালত চত্বরে আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এবার কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায়ও তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর আইনজীবী সমাজের নিরাপত্তা এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাকও দিয়েছেন তিনি।

‘আইনজীবীদের উপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না’, বললেন মমতা
মমতার বক্তব্য, “বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে গত ১৫ বছরে বহুবার তাঁর এবং তাঁদের মতপার্থক্য হয়েছে। আদর্শগত ও আইনি অবস্থানেও তাঁরা একমত ছিলেন না। কিন্তু সেই বিরোধ কখনও শালীনতার সীমা ছাড়ায়নি।” তাঁর দাবি, সংবিধান এবং বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখা জরুরি। অথচ বর্তমানে সংসদ থেকে বিধানসভা, পুরসভা থেকে আদালত-সর্বত্র ভিন্নমত এবং প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজেও আইনজীবী হওয়ার কারণে এই হামলার ঘটনায় সংহতি প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন মমতা। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও সমস্ত আইনজীবীকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করতে আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, “সংবিধান, বার, বেঞ্চ, রাজ্য এবং সর্বোপরি ভারতকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের।”
আরও খবর

বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা! পাল্টা সরব বিজেপি
মমতার বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক পরিসংখ্যানের উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ মাসে রাজ্যে ২,৪৫৪টি ধর্ষণ, ৬০০টি খুন, ১৩,১১৪টি খুনের চেষ্টা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আদালতের আধিকারিক হিসেবে বিবেচিত আইনজীবীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সম্মিলিত প্রতিরোধকেই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন মমতা।
বিজেপি নেতৃত্ব কটাক্ষ করে বলেছে, গত ১৫ বছর ধরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএমের প্রতিবাদে একাধিকবার সরব হয়েছেন। এবার বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলতে সিপিএমের সঙ্গেই গলায় গলা মেলালেন বলে কটাক্ষ পদ্ম শিবিরের।
ঘটনার বৃত্তান্ত
CCTV ক্যামেরায় দেখা যায়- বৃহস্পতিবার ভোরে বাইকে চেপে এক যুবক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। জামা খুলে সেটিকে মুখে বেঁধে নেয় ওই যুবক। তার সঙ্গে একটি সাদা ব্যাগ ছিল। যেখান থেকে একের পর এক খালি মদের বোতল বের করে বিকাশের বাড়ির দিকে ছুঁড়তে থাকে। সঙ্গে চলে গালাগালি। তাকে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নাম নিতেও শোনা গিয়েছে। যদিও, গোপাল পাঠার নাম মুখে নেওয়া মানেই কি হিন্দুত্ববাদী? এই প্রশ্ন এখন গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।
বিকাশ ভট্টাচার্য সমাজ মাধ্যমে লিখছেন, ‘‘আজ সকাল ৫টা নাগাদ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা হামলা চালাল আমার বাড়িতে। মোটর বাইকে করে এসে মদের বোতল ছুঁড়ে জানলার কাঁচ ভেঙে পালিয়ে গিয়েছে। অল্পের জন্য আমার কাজের সহায়িকা বেঁচে গেছে।’’ এরপর আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘গুন্ডারা এসেছিল মুখ ঢেকে। মোটর বাইকের নাম্বার প্লেট ঢেকে। খুব পরিকল্পিত আক্রমণ। এরা যদি সন্ত্রাসী না-হয় তবে কারা? ওই সব সন্ত্রাসীরা জেনে রাখুন, আমাকে ভয় দেখানো যাবে না। এবার আমি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেব।’’


