BJP Worker Murder Case
Bengal Liberty
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত হাড়দহ পঞ্চায়েতের ট্যাঙারবেড়িয়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল (Baruipur Murder) । মৃতের নাম বাপি প্রামাণিক (৪৫)। রবিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের যোগের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশ। তবে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি তৃণমূলের ষড়যন্ত্র, নিজেরা খুন করে বিজেপির ওপর দোষ চালাচ্ছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, এলাকার একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, রবিবার রাতে বাপি প্রামাণিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁকে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/08/24/bjp-worker-murder-2026-08-24-11-01-26.jpg)
পুজো কমিটি নিয়ে বিবাদ Baruipur Murder
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এই খুনের পিছনে অন্যতম হলেন বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল। তার পরিকল্পনাতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীদের হাতে রড, লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। মৃত বাপি প্রামাণিক এলাকায় দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এক বহিষ্কৃত বিজেপি নেতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে মারামারি শুরু হয়। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর আহত হন বাপি। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনার খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত খুনের ঘটনায় গড়ানোয় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, নাকি পুজো কমিটি সংক্রান্ত বিবাদ—সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

