CPIM on Mamata
Bengal Liberty
লাইভে এসে জনগণনা সম্পর্কে ভুল বার্তা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনগণনায় ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করলে ব্যাঙ্কের সঞ্চয় কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে ফের জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে বর্তমান রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর মতে, জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করা প্রয়োজন ছিল।

মমতার দাবি, জনগণনার ফর্ম পূরণের সময় একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইনে জনগণনার ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনেই তথ্য দিতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর-সহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ ফেসবুক লাইভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, “ জনগণনা মানে NRC ফর্মে, NPR ফর্মে, আপনাকে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে, মোবাইল নম্বর দিতে হবে, আধার কার্ডের নম্বর দিতে হবে, পরিবারের সদস্যদের পরিচয় দিতে হবে, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে টাকা তুলে নেবে না, তার কোনও প্রমাণ আছে?”
পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে জনগণনা শুরু হওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে কি না, কিংবা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে—সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কথার সঙ্গে বাস্তবের অমিলের অভিযোগ Mamata Banerjee
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি এবং জনগণনার পোর্টালে ফর্ম পূরণের পদ্ধতির মধ্যে অমিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইনে জনগণনার ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর-সহ ওই ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে জনগণনা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

এর আগেও CAA-কে NRC বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। ক্ষমতায় থাকাকালীনও জনসাধারণকে বিভিন্ন বিষয়ে ভুল বোঝানো হয়েছিল বলে দাবি বিজেপির। সেই প্রবণতা এখনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বহন করছেন বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে জনগণনার পক্ষে সায় দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তাতে বাধা দিয়েছিল বলে দাবি বিরোধীদের। বর্তমানে সারা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও জনগণনা শুরু হওয়ার আবহে ফের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

