Bengal Liberty
NSQF স্কিল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাধিক দাবি নিয়ে এবার আন্দোলনে নামছেন শিক্ষকরা (Teacher Protest)। এজেন্সি প্রথার অবসান, স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনে সরাসরি অন্তর্ভুক্তি, স্থায়ী চাকরির নীতি এবং চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে ২৭ অগস্ট কলকাতায় শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা ও অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ‘ভোকেশনালাইজেশন অফ স্কুল এডুকেশন’-এর অধীনে সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় পড়ান NSQF শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের দাবি, এই বিষয়গুলি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্টিভ সাবজেক্ট হলেও শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনও তৃতীয় পক্ষের এজেন্সির উপর নির্ভরতা রয়েছে।

স্থায়ী চাকরির দাবিতে শিক্ষকরা
শিক্ষকদের অভিযোগ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন। একাধিকবার শিক্ষা দফতর, কারিগরি দফতর এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, এজেন্সি প্রথার কারণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এজেন্সি ব্যবস্থা তুলে দিয়ে অন্যান্য রাজ্যের মতো স্কুলশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে সরাসরি এই শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, সেই অর্থের মধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য উপযুক্ত বেতন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।
NSQF শিক্ষকদের দাবি নিয়ে বিধানসভাতেও একাধিকবার বিষয়টি উঠেছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়করা এজেন্সি প্রথার অবসান এবং শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পক্ষে কথা বলেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

সূত্রের খবর, নতুন করে এজেন্সি নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এর ফলে দীর্ঘদিনের সমস্যা আরও জটিল হবে এবং NSQF শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ২৭ অগস্ট, বৃহস্পতিবার, শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেল পর্যন্ত পদযাত্রা ও অবস্থান-বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছেন NSQF স্কিল শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পাশাপাশি, দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিষয়টি রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচরে আনার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

