Election commission
Election commission

poll violence security: ভোটের পরও রাজ্যে থাকছে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, হিংসা রুখতেই কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

Bengal Liberty, Kolkata:

পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব শেষ হলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। poll violence security বরং ভোটের পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতেই নেওয়া হয়েছে বড় সিদ্ধান্ত। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটগণনা মিটে যাওয়ার পরেও রাজ্যে মোতায়েন থাকবে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। লক্ষ্য একটাই ভোট-পরবর্তী সম্ভাব্য হিংসা রোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

poll violence security
poll violence security

কেন এই সিদ্ধান্ত?

নির্বাচন শেষ হলেই উত্তেজনা থেমে যায় এমনটা বাস্তবে খুব কমই দেখা যায়। ফলাফল ঘোষণার পর অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ, প্রতিশোধমূলক আক্রমণ বা এলাকা দখল নিয়ে অশান্তির ঘটনা সামনে আসে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আগাম সতর্ক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশনের মতে, ভোটের সময় যেমন নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভোটের পরবর্তী কয়েক দিনও সমানভাবে সংবেদনশীল। তাই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

poll violence security
poll violence security

কত বাহিনী থাকবে রাজ্যে?

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, Central Armed Police Forces (CAPF)-এর মোট ৫০০ কোম্পানি বাহিনী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন থাকবে। এই বাহিনী শুধু সাধারণ টহল বা নজরদারির কাজই করবে না, বরং প্রয়োজন পড়লে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অশান্তি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাদের ছড়িয়ে দেওয়া হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী।

স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রেও কড়া নিরাপত্তা

ভোটের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে ইভিএম ও স্ট্রং রুম। সেই কারণেই আলাদা করে আরও ২০০ কোম্পানি CAPF মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বাহিনী বিশেষভাবে দায়িত্বে থাকবে—ইভিএম সংরক্ষিত স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়া,গণনা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,ভোটগণনার সময় কোনওরকম গোলমাল বা অনুপ্রবেশ আটকানো। গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই বাহিনী কমিশনের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন থাকবে।

ভোটের আগেই নজিরবিহীন প্রস্তুতি

এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই নিরাপত্তার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে কমিশন। ভোট শুরুর আগেই রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল প্রায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী কোথায় মোতায়েন করা হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়। এই বিপুল বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্য ছিল ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখা।

ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বরাবরই সংবেদনশীল। ভোটের সময় তো বটেই, ফল প্রকাশের পরেও বহু জায়গায় উত্তেজনা ছড়ানোর নজির রয়েছে। এবারও বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ বা উত্তেজনার খবর সামনে আসছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক (SIR) নিয়ে বহু জায়গায় ক্ষোভ দেখা গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল ঘোষণার পরে সেই ক্ষোভ আরও বড় আকার নিতে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা

ভোট-পরবর্তী হিংসা পশ্চিমবঙ্গে নতুন নয়।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একাধিক জেলায় অশান্তির ঘটনা সামনে আসে,২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পরেও সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ ওঠে।এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে, আবার কোথাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনাও ঘটেছে। এই অভিজ্ঞতাই নির্বাচন কমিশনকে এবার আরও সতর্ক করেছে। তাই ভোট শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

কতদিন থাকবে বাহিনী?

এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী কতদিন রাজ্যে থাকবে, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ, যতদিন না রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন এই বাহিনী মোতায়েন থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন শেষ হলেও উত্তেজনা যে পুরোপুরি থামছে না, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে কমিশন। তাই আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যে নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের লড়াই শেষ হলেও, শান্তি বজায় রাখার লড়াই এখনও চলছে আর সেই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury