Gyanesh Kumar removal demand
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
লোকসভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে Gyanesh Kumar removal demand। বিরোধীদের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত খারিজ করে দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর উদ্যোগ কার্যত থেমে যায়।

কীভাবে শুরু হয় বিতর্ক
বিরোধী দলগুলির একাংশ অভিযোগ তোলে যে সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি তোলে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল। তৃণমূলের নেতৃত্বে কয়েকটি বিরোধী দল সংসদে একটি নোটিস জমা দেয়। সেই নোটিসে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কিছু পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং বিষয়টি সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।
লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে বিরোধী জোটের প্রায় ১৯৩ জন সাংসদ একটি নোটিস দেন। সেই নোটিসে দাবি করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনসহ কিছু বিষয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে পদ থেকে সরানোর জন্য ইমপিচমেন্ট ধরনের একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা হয়।

সংসদে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়
বিরোধী সাংসদরা লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে একটি প্রস্তাবের নোটিস দেন, যাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অনেকটা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতো কঠোর পদ্ধতির মাধ্যমে হয়। সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ হলে তদন্ত ও আলোচনার পর দুই কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে তা পাশ করতে হয়।
স্পিকারের সিদ্ধান্ত
লোকসভায় সেই নোটিস পরীক্ষা করে দেখেন স্পিকার ওম বিড়লা। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে না। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রস্তাবটি সংসদের আলোচনার তালিকায় ওঠেনি। কোনো বিতর্ক বা ভোটাভুটি হয়নি। তাই অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। অর্থাৎ সংসদের প্রাথমিক ধাপেই বিষয়টি থেমে যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। দলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, প্রস্তাব খারিজ করার পেছনে স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি এবং এতে সংসদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজেপি কী বলেছে
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব ঘিরে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত পদক্ষেপ এবং নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা। বিজেপি নেতাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তারা বলেন, বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অকারণে সন্দেহ তৈরি করছে। বিজেপির আরও অভিযোগ, বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
তৃণমূল জাতীয় স্তরে এই ইস্যুকে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করতে চাইছে। কিন্তু স্পিকারের সিদ্ধান্তে সেই কৌশল সংসদের ভেতরে সফল হয়নি। সব মিলিয়ে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য বিরোধীরা যে প্রস্তাব এনেছিল, তা লোকসভায় গ্রহণ না করায় পুরো প্রক্রিয়াই এগোয়নি। স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তে বিষয়টি সংসদের প্রাথমিক স্তরেই থেমে যায় এবং তৃণমূল-সহ বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশল আপাতত সফল হয়নি।
