LOP Ritabrata Banerjee
Bengal Liberty, ৩ জুন :
অবশেষে বিরোধী দলনেতার মুকুট পড়ানোর আবেদন জানানো হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। এবং ডেপুটি লিডার শাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান, সন্দ্বীপ সাহা এবং শিউলি সাহা। জল্পনা অনেকদিন ধরেই চলছিল শুধু শিলমোহর পড়তে বাকি ছিল। তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেকটা আজ অবশেষে গাঁথা হয়েই গেল। অতঃপর, তৃণমূল শেষ, নব তৃণমূল কামিং।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হতে গেলে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন৷ সেদিক থেকে ঋতব্রতর পক্ষে রয়েছেন ৫৮ জনের বেশি তৃণমূল বিধায়ক৷ তার পরিপ্রেক্ষিতেই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর কাছে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে৷ সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷

কালীঘাটের বৈঠক থেকে সই অসঙ্গতি
গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের পর, ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর বিধানসভার সচিব আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র চাইলে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় এবং পরবর্তীতে ৭০ জন বিধায়কের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয়। কিন্তু শপথগ্রহণের সইয়ের সাথে এই কাগজের সই না মেলায় জালিয়াতির সন্দেহে সচিব এফআইআর দায়ের করেন, যার তদন্তভার পায় সিআইডি। এরই মধ্যে দুই বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন যে, ১৯ তারিখের হাজিরা খাতার পাতা ছিঁড়েই জালিয়াতি করে রেজুলিউশন পেপার হিসেবে চালানো হয়েছে, যার জেরে তাঁদের বহিষ্কারও করা হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূলের ৩ বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং শুভাশিস দাস দাবি করেন তাঁরা বৈঠকে ছিলেন না এবং তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। এই লিখিত অভিযোগে সিআইডি আদালতের দ্বারস্থ হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্ট তাঁদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের চূড়ান্ত অনুমতি দেয়। অপরদিকে আজ, মঙ্গলবার বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কেরা অধ্যক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিলেন, তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের নেতা হিসাবে নির্বাচিত করছেন।

