West Bengal Cabinet Ministers
Bengal Liberty : অবশেষে দীর্ঘ জল্পনার অবসান। দীর্ঘ এক মাস পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন চূড়ান্ত হলো। বুধবার, ১০ জুন নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সমন্বয় শাখা থেকে এই সংক্রান্ত অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যপাল আর. এন. রবির অনুমোদন সাপেক্ষে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এই তালিকা প্রকাশ করেছেন। পূর্বতন জমানার অবসান ঘটিয়ে একঝাঁক নতুন ও অভিজ্ঞ মুখকে সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিজের হাতেই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী (West Bengal Cabinet Ministers)
নতুন সরকারের চালিকাশক্তি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর দফতরগুলি নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী): স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি, কর্মীবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার (পার)।
হেভিওয়েট পূর্ণমন্ত্রীদের দায়িত্বে বড় চমক (West Bengal Cabinet Ministers)
রাজ্যের অর্থনৈতিক, শিল্প ও শিক্ষাগত পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবনে অভিজ্ঞ ও আদি বিজেপি নেতাদের ওপর ভরসা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বপন দাশগুপ্ত (অর্থ দফতর): রাজ্যের অর্থ ব্যবস্থার হাল ফেরাতে প্রবীণ নেতা স্বপন দাশগুপ্তের ওপরেই ভরসা রাখা হয়েছে।
তাপস রায় (শিল্প ও বাণিজ্য): বর্ষীয়ান এই নেতাকে শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (স্বাস্থ্য): পেশায় চিকিৎসক শারদ্বতবাবুর কাঁধে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের গুরুভার।
দিলীপ ঘোষ (পঞ্চায়েত): বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা সামলাবেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতর।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দীপক বর্মণ (শিক্ষা): শিক্ষা বিভাগকে আবারও দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পাচ্ছেন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। স্কুলশিক্ষা, আবাসন এবং এমএসএমই (MSME) ও বস্ত্র দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মণ।
অর্জুন সিং (পরিবহণ ও শ্রম): ব্যারাকপুরের এই দাপুটে নেতা পাচ্ছেন পরিবহণ এবং শ্রম দফতরের মতো গণমুখী বিভাগ।
দুধকুমার মণ্ডল (কৃষি): বিজেপির আদি মুখ দুধকুমার মণ্ডলের হাতে ন্যস্ত হয়েছে কৃষি দফতর।
অগ্নিমিত্রা পাল (নগরোন্নয়ন): আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল সামলাবেন নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতর।
ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী: তথ্যপ্রযুক্তি (IT), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্যানপালন (Horticulture) দফতর।
উত্তরবঙ্গ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণমন্ত্রীরা (West Bengal Cabinet Ministers)
নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন।
শঙ্কর ঘোষ: পর্যটন এবং পরিষদীয় বিষয়ক দফতর।
অশোক কীর্তনিয়া: খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দফতর।
মনোজ কুমার ওঁরাও: বন ও পরিবেশ দফতর।
ক্ষুদিরাম টুডু: আদিবাসী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা।
অজয় কুমার পোদ্দার: পূর্ত (PWD) এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) দফতর।
অরূপ কুমার দাস: সেচ ও জলপথ দফতর।
গৌরীশঙ্কর ঘোষ: অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ এবং গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ প্রতিমন্ত্রী (West Bengal Cabinet Ministers)
১. ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ: যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতর।
২. মালতী রাভা রায়: নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রকল্প রূপায়ণ।
৩. রাজেশ মাহাত: প্রাণিসম্পদ বিকাশ এবং মৎস্য দফতর।

একনজরে ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী (West Bengal Cabinet Ministers)
সহকারী মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একঝাঁক নতুন মুখকে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— অশোক দিন্দা (কৃষি বিপণন ও এমএসএমই), কৌশিক চৌধুরী (স্কুলশিক্ষা ও দমকল), বিরাজ বিশ্বাস (আইন, বিচার ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন), আনন্দময় বর্মণ (পরিবহণ ও অর্থ), শান্তনু প্রামাণিক (খাদ্য ও পঞ্চায়েত), বিশাল লামা (স্বরাষ্ট্র ও সংখ্যালঘু বিষয়ক) , সুমনা সরকার (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ), কলিতা মাজি: আবাসন দফতর, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র: শিল্প, বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং বায়ো টেকনোলজি, গার্গী ঘোষ দাস: বিদ্যুৎ, অপ্রচলিত শক্তি দফতর, জুয়েল মুর্মু: সেচ এবং আদিবাসী উন্নয়ন, উমেশ রাই: পরিষদীয় এবং নগরোন্নয়ন, দীপঙ্কর জানা: ভূমি ও ভূমি সংস্কার, সুন্দরবন বিষয়ক, পূর্ণিমা চক্রবর্তী: পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি, হরেকৃষ্ণ বেরা: উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা, অমিয় কিস্কু: খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ এবং কৃষি, ভাস্কর ভট্টাচার্য: জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং শ্রম, দিবাকর ঘরামী: সমবায়, বন এবং পরিবেশ, নাদিয়ার চাঁদ বাউড়ি: পূর্ত (PWD) এবং অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ।
নবান্ন সূত্রের খবর, বিজ্ঞপ্তি জারির পর আজ থেকেই সমস্ত মন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্বভার গ্রহণ করে কাজ শুরু করে দিচ্ছেন।

