Tamil Nadu Gas Leak
Bengal Liberty: আরও একটা রবিবার। আর পাঁচটা দিনের মতোই ঘরের লক্ষ্মীরা কাজ করছিলেন তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার এক চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায়। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে আসা এই পরিযায়ী শ্রমিকদের চোখে ছিল একটাই স্বপ্ন— হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত টাকায় দূরে থাকা নিজের পরিবারকে একটু সুখে রাখা। কিন্তু রবিবার দুপুরে এক নিমেষে ওলটপালট হয়ে গেল সবটা। কারখানার বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্র থাবায় চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল সাতটি তাজা প্রাণ। মৃতদের প্রত্যেকেই নারী।

তিরুভাল্লুরের কান্নিগাইপায়ার গ্রামের ‘সেন্ট পিটার্স পল সি-ফুডস এক্সপোর্টস’ কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মাছ ঠান্ডা রাখার জন্য ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাপক ভাল্ভ ফেটে এই বিপর্যয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁঝালো গ্যাসে ভরে যায় চারপাশ। তীব্র শ্বাসকষ্টে, চোখে জ্বালায় ছটফট করতে করতে কারখানার মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন একের পর এক শ্রমিক। অনেকের শুরু হয় বমি ও মাথা ঘোরা

বর্তমানে প্রায় ৬৭ জন শ্রমিক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় জীবনের শেষ লড়াই লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন ভেলস হাসপাতালে, ২১ জন ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে এবং অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ৯ জনকে চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৭ জন রয়েছেন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পিপিই কিট ও বিশেষ উদ্ধারকারী সরঞ্জাম নিয়ে ময়দানে নামতে হয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-কে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। অন্যদিকে, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীদের চিহ্নিত করতে ‘ডিরেক্টর অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি অ্যান্ড হেলথ’ সহ তিন শীর্ষ আধিকারিককে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন এবং ৩ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গাফিলতির অভিযোগে কারখানার দুই মালিককে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

তদন্ত হবে, হয়তো ক্ষতিপূরণও মিলবে; কিন্তু যে মায়েরা, বোনেরা দু-মুঠো ভাতের জোগাড় করতে হাজার মাইল দূরে এসে আজ কফিনবন্দি হলেন, তাঁদের শূন্যস্থান কি আদেও পূরণ হবে? এই প্রশ্নই এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে গোটা দেশকে।


