mamata ritbrata
Bengal Liberty:
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ করল কালীঘাটের নেতৃত্ব (TMC Election Commission)। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৫ জুনের জাতীয় কর্মসমিতি ও রাজ্য কমিটির তালিকা মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ।
সোমবার নিউটাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবির নিজেদের জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করে। সেই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও স্থান রাখা হয়নি। চেয়ারম্যান পদে অরূপ রায় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন কমিটির নথি জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।

দল হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা মমতার TMC Election Commission
এর পরই মঙ্গলবার কালীঘাট শিবির ৫ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের তালিকা প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এই তালিকা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন।
রাজ্য কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। রাজ্য সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বাতী খাণ্ডেকর। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী।

ঋতব্রত মন্তব্য
সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আসল’ তৃণমূলের দাবিতে পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করার পরই নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর নথি প্রকাশ্যে এনে দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বার্তা দিতে চেয়েছে কালীঘাট শিবির। যদিও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বলেন, “এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য নেই। ওদের ভাল হোক।”
ফলে ‘আসল’ তৃণমূলের দাবিকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত এখন কার্যত নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক বৈধতার প্রশ্নে কমিশনের সামনে কোন পক্ষ এগিয়ে থাকে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


