Sabyasachi Dutta
Bengal Liberty: তোলাবাজি এবং হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সব্যসাচী দত্ত ও তাঁর সহযোগীর জামিনের আর্জি খারিজ করে দিল আদালত। আজ, বারাসাত এডিজে (তৃতীয়) আদালত এই মামলার শুনানি শেষে ধৃতদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে (Sabyasachi Dutta)। একই সঙ্গে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনতে অভিযুক্তদের কণ্ঠস্বরের নমুনা বা ‘ভয়েস স্যাম্পেল’ সংগ্রহের আবেদনেও সবুজ সংকেত দিয়েছেন অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট জর্জ (তৃতীয়)। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামীকালই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম)-এর উপস্থিতিতে সব্যসাচী দত্ত, তাঁর সহযোগী এবং অভিযোগকারীর ভয়েস স্যাম্পেল নেওয়া হবে।

থ্রেট কলের রহস্য ফাঁস করতে ভয়েস টেস্ট (Sabyasachi Dutta)
তদন্তকারী ও সরকারি আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। আদালতের বিশেষ সরকারি আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) বিভাস চ্যাটার্জি জানান, ভিকটিম বা অভিযোগকারীর কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এর পর সব্যসাচী দত্ত ভিকটিমের কাছে আরও ১ কোটি টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে চরম পরিণতির হুমকি দেওয়া হয় এবং অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় গালাগালি করা হয়।
এই সম্পূর্ণ হুমকি পর্বটির একটি অডিও রেকর্ডিং পুলিশের হাতে এসেছে। সেই থ্রেট কলের কণ্ঠস্বরটি প্রকৃতপক্ষেই সব্যসাচী দত্তের কি না, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিশ্চিত করতেই এই ভয়েস স্যাম্পেল পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল। সিজিএম কোর্টে আগামীকাল এই তিনজনের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের পর তা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে এবং মূল রেকর্ডিংয়ের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।

২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার ভিডিও তদন্তকারীদের হাতে (Sabyasachi Dutta)
এর পাশাপাশি মামলার অন্য সহযোগীটির বিরুদ্ধেও অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। বিশেষ পিপি বিভাস চ্যাটার্জি জানান, ওই সহযোগী যেভাবে ভিকটিমের থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা গুনে গুনে নিচ্ছিলেন, তার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ (ভিডিও এভিডেন্স) তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। ফলে আইনগতভাবে এই মামলার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক এভিডেন্স বা বৈদ্যুতিন তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে চলেছে।
আজ আদালতে শুনানির সময় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে জামিনের জোরদার সওয়াল করা হলেও, অপরাধের গুরুত্ব এবং তথ্যপ্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা বিচার করে বিচারক তা নাকচ করে দেন। আদালতের নির্দেশের পর আজ সন্ধ্যার ঠিক পর পরই সব্যসাচী দত্ত ও তাঁর সহযোগীকে কড়া নিরাপত্তায় পুনরায় জেল হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী জলপ্রপাত কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।



