Mamata vs Suvendu
Bengal Liberty : কথায় আছে, ‘স্বর্ণকারের ঠুকঠাক, কামারের এক ঘা’। রাজ্যের প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বিপর্যয় মোকাবিলার ধরন নিয়ে প্রশাসনিক মহলের একাংশে এই প্রবাদই এখন আলোচনায়। ২০২৪ সালে গার্ডেনরিচের ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৪ জনের। তারপর আজ পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির দৃষ্টান্ত নেই (Mamata vs Suvendu)। তদন্ত, চার্জশিট, সাময়িক সাসপেনশন, সবই হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের শেষ দেখা যায়নি। তৃণমূল সরকারের আমলে বেআইনি নির্মাণের রমরমা চললেও প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে, তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিধানসভায় সরাসরি তৃণমূলের কারসাজির প্রমাণ দেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে কাজ। সমস্ত নির্মাণ অডিট করে তারপর কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata vs Suvendu)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন এনে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপও করা হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে গার্ডেনরিচ ঘটনায় অভিযুক্তরা কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কেন পেলো না? মমতার সরকার কেন হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন? একেই বলে সদিচ্ছার অভাব!

গার্ডেনরিচের ক্ষত আজও শুকায়নি (Mamata vs Suvendu)
২০২৪ সালের ১৭ মার্চ গার্ডেনরিচের আজহার মোল্লা বাগান লেনে নির্মীয়মাণ একটি বেআইনি বহুতল ভেঙে পড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কথা ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন এবং স্বীকার করেন যে নির্মীয়মাণ বহুতলটি বেআইনি ছিল। পরে ৭৩০ পাতার চার্জশিটে ছ’জনকে অভিযুক্ত করা হলেও মামলাটি এখনও বিচারাধীন। তিন ইঞ্জিনিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরে তাঁদের পুনর্বহাল করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছিল। তবে তৎকালীন সরকারের তৎপরতা দেখেনি কেউই।

তারাতলা কাণ্ডে কড়া অবস্থান মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata vs Suvendu)
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে এখনও। প্রাণহানির ঘটনায় বিধানসভায় সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নকশা অনুমোদনের একটি নথি দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে ফিরহাদের স্বাক্ষর রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, এই ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। শুধু গ্রেফতারই নয়, প্রয়োজনে নতুন আইন এনে দোষীদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ জনকে। তদন্ত চলছে পুরো দমে। মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন।
দুই সরকারের আমলের দুই ঘটনার থেকে একটা কথা স্পষ্ট, দুই প্রশাসনের ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। এটাও স্পষ্ট যে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।



