TMC Leader
Bengal Liberty : এবার বুলডোজার অভিযান বহরমপুরে (TMC Leader)। অভিযোগ, অন্যের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছিল তৃণমূলের এক যুবনেতার বাগানবাড়ি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার বহরমপুর পুরসভার তত্ত্বাবধানে বুলডোজার চালিয়ে অবৈধ নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেয় পুরসভা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি আইন মেনেই কেনা হয়েছিল এবং দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন (TMC Leader)।

বুলডোজারে ভাঙল বাগানবাড়ি(TMC Leader)
অভিযুক্ত বহরমপুরের যুব তৃণমূলের নেতা পাপাই ঘোষ। তাঁর স্ত্রী মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। অভিযোগ, বহরমপুর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদ বাঙালপাড়া এলাকায় অন্যের জমি দখল করে একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পর শনিবার পুরসভার উদ্যোগে বুলডোজার চালিয়ে সেই নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পাপাই ঘোষ ও তাঁর স্ত্রীর কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁরা পলাতক বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবারের বক্তব্য, জমিটি বৈধভাবে কেনা হয়েছিল এবং বেআইনি দখলের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। পাপাই ঘোষের মা চম্পা ঘোষের দাবি, “আমরা ওই জমিটি নিয়ম মেনেই কিনেছিলাম। আমাদের কাছে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ছেলে রাজনীতি করে বলেই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই কাজ করা হচ্ছে।”

বিতর্কের আবহেই প্রধানের পদত্যাগ
বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহরমপুর বিডিও অফিসে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন মনীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা ঘোষ, যিনি পাপাই ঘোষের স্ত্রী। তাঁর পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও পদত্যাগের কারণ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি, তবে একের পর এক আইনি বিতর্ক ও প্রশাসনিক চাপের জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বহরমপুর ব্লকে সাম্প্রতিক সময়ে এটি একমাত্র পদত্যাগ নয়। এর আগে বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডল, দৌলতাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং ভাকুড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও ইস্তফা দিয়েছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল মনীন্দ্রনগরের প্রধানের নামও।
কংগ্রেস কাউন্সিলারের অভিযোগ
ওই ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার তথা বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা হিরু হালদার বলেন, ‘এটা তো ছোট একটা ব্যাপার। এই তৃণমূল যুব সভাপতির নেতৃত্বে একাধিক সরকারি জায়গা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পার্ক ও সুইমিং পুল, সেটাকে অন্য লোকের হাতে তুলে দিয়ে, এখন সেখানে গোডাউন হয়েছে। আমি চাই সেই পার্ক পুনরুদ্ধার করা হোক।’
উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য সরকার বেআইনি নির্মাণ ও সরকারি বা ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগে একাধিক জায়গায় কড়া পদক্ষেপ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার স্পষ্ট করেছেন, বেআইনি নির্মাণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সেই নীতির অংশ হিসেবেই বহরমপুরে এই উচ্ছেদ অভিযান বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

আরও পড়ুন :
Canning: ক্যানিংয়ে বিজেপি নেতাকে বেধড়ক মারধর, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ


