Nepal Hindu
Nepal Hindu

Nepal Hindu : জেন জি আন্দোলনের মাঝেই হিন্দু রাষ্ট্রের দাবিতে সরব নেপালবাসী!

Bengal Liberty

ভারতের(Nepal Hindu) প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে জেন জি (Gen Z) আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির শাসনকালে। তাঁর সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ থেকে এই গণআন্দোলনের ঢেউ রাজপথে নেমে আসে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম বেহাল দশার মাঝেই আন্দোলনের সামনের সারিতে উঠে আসেন জেন জি নেতা বালিন্দ্র শাহ। আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে একপর্যায়ে কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেন বালিন্দ্র শাহ। সকলের সার্বিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি ক্ষমতায় বসেছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যেন সেই পুরনো প্রবাদই সত্যি হলো—”লঙ্কায় যে যায়, সেই হয় রাবণ।”

Advertisement
Advertisement

বালিন্দ্র শাহের আসল রূপ প্রকাশ্যে(Nepal Hindu)

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নেপালজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, উল্টে জেন জি আন্দোলনের সহকর্মীদের ওপরই দমন-পীড়নের নীতি গ্রহণ করেন নতুন এই রাষ্ট্রপ্রধান।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালের জেন জি আন্দোলনকারীরা পুনরায় দেশকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেছেন। এই দাবিকে কেন্দ্র করে পুরো নেপালজুড়ে আবারও তীব্র গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা পুরো দেশকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। নেপালকে পূর্ণাঙ্গ হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর এই দাবি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও, অতীতে নেপাল কিন্তু একটি হিন্দু রাষ্ট্রই ছিল। কীভাবে সেই পরিচয়ের পরিবর্তন ঘটেছিল? দেখে নেওয়া যাক সেই রাজনৈতিক পটভূমির ইতিহাস

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট(Nepal Hindu)

সাংবিধানিক মর্যাদা(Nepal Hindu)

রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর ২০০৬ সালে নেপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের সংবিধানে এটিকে স্থায়ী আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য(Nepal Hindu)

নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮১.২ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ফলে বৌদ্ধ ও ইসলাম ধর্মের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এটি মূলত একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।

পৃথ্বী নারায়ণ শাহের অবদান(Nepal Hindu)

১৭৬৮ সালে গোর্খার রাজা পৃথ্বী নারায়ণ শাহ কাঠমান্ডু উপত্যকা জয় করেন। তিনি খণ্ড-বিখণ্ড পার্বত্য রাজ্যগুলোকে একত্রিত করে নেপালকে “আসল হিন্দুস্তান” (হিন্দুদের প্রকৃত ভূমি) হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

মুলুকি আইন(Nepal Hindu)

রানা শাসনামলে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু সামাজিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তৃত আইনব্যবস্থা ‘মুলুকি আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এতে জাতিভেদ প্রথা সুপ্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল।

আনুষ্ঠানিক হিন্দু রাজ্য(Nepal Hindu)

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে রাজা মহেন্দ্রের আমলে প্রণীত সংবিধানে নেপালকে স্পষ্টভাবে একটি ‘হিন্দু রাজ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে রাজাকে হিন্দু ধর্মীয় ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হতো।

২০১৫ সালের সংবিধান(Nepal Hindu)

নতুন প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধানে নেপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞাও জারি রাখা হয়েছে। অনেকটা একইভাবে ১৯৭৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও ভারতীয় সংবিধানে ‘সেক্যুলার’ (ধর্মনিরপেক্ষ) শব্দটি যুক্ত করেছিলেন।

Nepal Hindu
Nepal Hindu

হিমালয়ের এই কোল ঘেঁষা দেশ কি আবারও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ পরিচয় মুছে ফেলে পূর্ণাঙ্গ হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে? নাকি বালিন্দ্র শাহের এই দমনমূলক শাসন থেকে মুক্তি পাবে নেপালবাসী? এই প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপালের রাজনীতি। জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়ে কোন পথে এগোবে নেপালের ভবিষ্যৎ—তা নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

Advertisement
Advertisement

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury