Bengal Liberty
নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠছে নানা প্রশ্ন (Kolkata Hotel Fire)। আবাসিকদের একাংশের দাবি, আগুন লাগার পরেও হোটেল কর্তৃপক্ষের কারও দেখা মেলেনি। ছিল না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিকেরা হোটেল ছেড়ে বার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোন রাস্তা দিয়ে বার হবেন, ধোঁয়ায় তা অনুমান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এক আবাসিকের কথায়, ‘‘দমকলকর্মীরা না-এলে আমরাও হয়ত বাঁচতে পারতাম না!’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, সাধারণত ভিন্রাজ্য বা বাইরের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা ওই বাড়ির হোটেলগুলিতে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে যখন সকলে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেক আবাসিকই হোটেলের ঘরে আটকে পড়েন। ওই বহুতলে ঢোকা এবং বেরোবার পথ একটাই। সেটাও সঙ্কীর্ণ। আবাসিকদের দাবি, হোটেলে কোনও আপৎকালীন নির্গমন দ্বার ছিল না। কেউ কেউ শৌচাগারে ঢুকে পড়েন। সেখানকার জানলা ভেঙে বার হওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। দমকলবাহিনী এসে ওই বিল্ডিংয়ে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে।

আরও খবর
কীভাবে অনুমতি মিলেছে এমন আবাসনের? Kolkata Hotel Fire
প্রশ্ন উঠছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে হোটেলগুলি চলছিল? হোটেল চালানোর মতো দমকলের ছাড়পত্র ছিল মালিকদের কাছে? ঘুপচি ঘুপচি ঘরে নিরাপত্তা কোথায়? পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হবে। তাঁর প্রশ্ন, হোটেলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কী ভাবে। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স কী ভাবে দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে নাম না করে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেও আঙুল তুলেছেন পুরমন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, কেএমসি, ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তরফে কী ভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা জানা জরুরি। শুধু তাই নয়, হোটেলটির ট্রেড লাইসেন্স কী ভাবে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

দমকল মন্ত্রীর বক্তব্য
ঘটনার স্থলে উপস্থিত হয়েছেন দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি জানিয়েছেন, ” এই মুহূর্তে পরিস্থিতি আপনারা জানেনই। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি প্রায় ৮০ জনকে আমাদের দফতরের আধিকারিক ও দমকলকর্মীরা উদ্ধার করে বাঁচিয়েছেন। আশপাশের যে সেন্টার বা এলাকা রয়েছে, সেখানেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ সামনে আসেনি। ফরেনসিক তদন্তের পরই হয়তো আসল কারণ জানা যাবে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, এক মিনিটের মধ্যেই আমাদের দমকলের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। আমরা প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি। তা না হলে আজ প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হতে পারত। জায়গাটি খুবই কাছাকাছি হওয়ায় খবর পাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই আমাদের আধিকারিক ও দমকলকর্মীরা সেখানে পৌঁছে যান।
হোটেলে আটকে থাকা বেশির ভাগই ছিলেন বাংলাদেশি। দমকল মন্ত্রী জানিয়েছেন, ” আমাদের কাছে এমন খবর এসেছে যে, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই বাংলাদেশি। তবে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কলকাতা পুলিশ এবং যেখানে প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।”


