Bengal Liberty : বর্ষার মরসুমে ফের বাড়ছে ডেঙ্গি ও জ্বরের প্রকোপ (Dengue)। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার আরও কড়া নজরদারির পথে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। শুধু হাসপাতালে রোগী আসার অপেক্ষা নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগী চিহ্নিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তের খোঁজ মিললেই দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ অভিযান (Dengue)।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীর খোঁজ (Dengue)
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীর সন্ধান করবেন আশা কর্মীরা। কোনও ব্যক্তির ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বর থাকলে তাঁর তথ্য এএনএম বা সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল অফিসারকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে ডেঙ্গি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেবেন আশা কর্মীরা। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি পরীক্ষাকেন্দ্রের ঘাটতি রয়েছে এমন এলাকায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলিকেও বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিযুক্ত দরে ডেঙ্গি পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আক্রান্তের এলাকায় বিশেষ নজর (Dengue)
কোনও এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মিললেই দ্রুত সেখানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংস, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং থার্মাল ফগিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভা এলাকায় আক্রান্তের বাড়ির আশপাশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারিও চালাতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে ফলো-আপ এবং পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে। জ্বরের প্রকোপ বেশি হলে বা কোনও এলাকা ডেঙ্গির হটস্পট হয়ে উঠলে ফিভার ক্যাম্প করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা, ব্লক এবং পুরসভা এলাকায় এই ক্যাম্প চলবে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সেখানে চিকিৎসক, নার্স, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান-সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন।
আরও খবর

দ্রুত পরীক্ষা, রিপোর্ট এবং চিকিৎসায় জোর (Dengu)
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ, ফিভার ক্যাম্পে আসা প্রত্যেক রোগীর নাম, ঠিকানা এবং যোগাযোগের নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। ম্যালেরিয়ার দ্রুত পরীক্ষার পাশাপাশি ডেঙ্গির পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। একই দিনে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পরের দিন রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ডেঙ্গি ধরা পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে জানাতে হবে। প্লেটলেট ৫০ হাজারের নীচে নেমে গেলে স্লাইড পদ্ধতিতে তা ম্যানুয়ালি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন, তাঁদের যথাযথ রেফারাল নোট দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে হবে। বাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও বিপদসংকেত সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। কোনও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন প্রয়োজনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, লায়ন্স ক্লাব-সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছে। রোগী চিহ্নিতকরণ ও চিকিৎসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের এই বিশেষ অভিযান চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/09/03/municipal-election-5/


