Bengal Liberty : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ ধসের পর পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ (Nepal)। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা। নেপাল সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিপর্যয়স্থল থেকে ১২৫৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯৫টি দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেগুলি পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখনও ৫০৮৩ জন নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (Nepal)।

৫ হাজারের বেশি নিখোঁজ (Nepal)
গত ২৬ অগস্ট নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে আচমকাই হড়পা বান নামে। কাদামাটি, পাথর ও হিমশীতল জলের প্রবল স্রোত নিমেষে ভাসিয়ে দেয় নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার একাধিক জনবসতি। বিপর্যয়ের পর থেকেই বহু মানুষ নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের বেশ কিছু পর্যটকও। নেপাল সরকারের হিসাবে, এখনও পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় ১২ হাজার ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৫ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাধীন। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে মোতায়েন করা হয়েছে ২১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী। দুর্গতদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে মোট ৩৮৪৪টি ত্রাণশিবির। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে সেতু ও মোবাইল টাওয়ার পুনর্নির্মাণের কাজও চলছে।

বিপর্যয়ের পর প্রথম দিকে বিদেশি সাহায্য নিতে অনীহা দেখিয়েছিল নেপাল সরকার। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবস্থান বদল করে ভারত-সহ একাধিক দেশকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহযোগিতার অনুমতি দেওয়া হয়।
আরও খবর
ভারত-চিন-আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Nepal)
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য এবার সরাসরি ভারত, আমেরিকা ও চিনের দিকে আঙুল তুলেছে নেপাল সরকার। তাদের অভিযোগ, এই তিন দেশের দূষণের প্রভাবেই হিমালয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং তার ফলেই হিমবাহ ধস-সহ একের পর এক বিপর্যয় ঘটছে। এই ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কাছে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে চলেছে নেপাল। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বারস্থ হতে পারে নেপাল সরকার। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সাধারণ বিতর্কসভা। সেই অধিবেশনে নেপালের হয়ে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের।

এদিকে, ভারতও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জারি রেখেছে। সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি সি-১৩০জে বিমান ওষুধপত্র ও ফরেন্সিক সরঞ্জাম নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। ওই দফায় মোট ২১ টন সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বিপর্যয়ের পর নেপালে ভারতের পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর পরিমাণ ৬৮ টনেরও বেশি হয়েছে। হড়পা বান ও হিমবাহ ধসের ভয়াবহতায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বিপর্যস্ত। উদ্ধারকাজ চললেও বিপুল সংখ্যক মানুষের সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং নিখোঁজদের সন্ধান করাই এখন নেপাল প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/09/03/india-us/


