Bengal Liberty : ভবিষ্যতে আর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। বয়সের কথা মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক ময়দান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিলেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে দলের প্রতি কোনও ক্ষোভ বা অভিমান নেই। বরং স্বেচ্ছায় ভোটের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি। তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলতে থাকা জল্পনার অবসান হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জঙ্গিপুরের বিধায়ক বলেন, “আমি শাসকদলের বিধায়ক হতে পারি, কিন্তু বিধায়ক হয়েছি সাধারণ মানুষের ভোটে। যাঁরা বিশ্বাস করে সমর্থন করেছেন, যত দিন বাঁচব তাঁদের স্বার্থের বিরুদ্ধে এক পা-ও যাব না।” সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিধায়ক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে ভোটারদের আস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পিছনে বয়সকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার একটা বয়সের ব্যাপার রয়েছে। এখন দলে বহু নতুন ছেলে-মেয়ে উঠে আসছে, যারা রাজনীতি করছে। এবার তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।” অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও খবর
তবে তাঁর এই ঘোষণাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার কোনও অবকাশ নেই বলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক। বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “আমার একটা জেদ ছিল, তার জবাব আমি দিয়েছি। দল আমাকে টিকিট দিয়েছিল, আমি জয়লাভও করে দেখিয়েছি। আজ আবার ভোটে দাঁড়ালেও আমিই জিতব, সেই একই রাজনৈতিক অঙ্কে পাশ করব। কিন্তু আমি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে চাই।”
রাজনীতিতে থাকবেন, অগ্রাধিকার সেবায়
নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি। বরং দলের কর্মী হিসেবে ভবিষ্যতেও সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এরপর পরিবার, আধ্যাত্মিক জীবন আর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সেবা নিয়েই সময় কাটাতে চাই। তবে দল ও রাজনীতিতে অবশ্যই থাকব। দল যখনই যে সাহায্য বা সমর্থন চাইবে, দলের কর্মী হিসেবে তা সানন্দে করব।”
তাঁর এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে জঙ্গিপুরে বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণ কোন পথে এগোবে। যদিও বিধায়ক স্পষ্ট করেছেন, ভোটে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং স্বেচ্ছায় নেওয়া। এখন দেখার, তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর জঙ্গিপুরে বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ে।


