Bengal Liberty : : লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি বুধবার বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যকে তাদের “খেলনা” হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, টাটা সন্সের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিবাদের আবহে ব্যবসায়িক নেতারা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন-এর জবাবে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ও আইনি বিষয়গুলোকে রাজনীতিকরণ করা এবং ভারতীয় শিল্পের প্রতি অবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন। এক্স-এ করা এক পোস্টে রাহুল দাবি করেছেন যে, টাটা গ্রুপকে “অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস” করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই বিতর্কের বিষয়ে ব্যবসায়িক নেতারা কেন নীরব। কংগ্রেস নেতা বলেন, “টাটা গ্রুপকে অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ কোনো ব্যবসায়িক নেতারই একটি শব্দ উচ্চারণ করার সাহস নেই। আপনারা আর কতদিন চুপ করে থাকবেন? যতক্ষণ না তারা আপনাদের পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়?” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতীয় ব্যবসা-বাণিজ্য কোনোভাবেই বিজেপির “খেলনা” নয়।
। রাহুলের মন্তব্যের জবাবে নির্মলা সীতারমন তাঁকে প্রতিটি বিষয়কে রাজনীতিকরণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ও আইনি বিষয়গুলোকে হালকাভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধি, আপনাকে অনুরোধ করব প্রতিটি বিষয়কে রাজনীতিকরণ করা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া, বাণিজ্যিক ও আইনি বিষয়গুলোকে অনায়াসেই অপরাধমূলক বলে আখ্যা দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।” সীতারমন অভিযোগ করেন যে, রাহুল বারবার ভারতীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের অর্জনগুলোর সমালোচনা করছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, “কয়েক দশক ধরে আপনাদের দল ‘লাইসেন্স-কোটা রাজ’-এর দমবন্ধ করা ব্যবস্থায় ভারতীয় উদ্যোক্তাদের উদ্দীপনাকে পিষে ফেলেছিল এবং কোটি কোটি ভারতীয়র ওপর দারিদ্র চাপিয়ে দিয়েছিল।”
কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতির পার্থক্য তুলে ধরে সীতারমন বলেন যে, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতীয় শিল্পকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উৎস হিসেবে গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, “আমাদের নীতিগুলো এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হয়, শিল্পক্ষেত্র সহায়তা পায় এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, শিল্পক্ষেত্রকে সহায়তা করা, কৃষকদের শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, নেতৃবৃন্দ, সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমান দায়িত্ব রয়েছে।


