Bengal Liberty : চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নিহত ১৯ জনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নিহতদের পরিবারের সম্মতি থাকলে প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন সদস্যকে রাজ্য সরকারের চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী পদে নিয়োগ করা হবে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার মাধ্যমে এবং জেলাগুলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের নেতৃত্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
চোরবাগান কাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে বুধবারের বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেই নিহতদের পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্য এবং সরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার।
তবে পদপিষ্ট হয়ে নিহতদের মধ্যে দু’জন বিহারের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিহারের দু’জনকে আমি নিয়োগ দিতে পারব না, যেহেতু তাঁদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নেই। তবে তাঁদের কাছে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেবেন মন্ত্রী উমেশ রাই।”
আরও খবর
এদিনের বৈঠকে চোরবাগান কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর পর ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ নজরদারির দায়িত্ব মন্ত্রীদের উপরেও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ছটপুজোর সময় নদী ও জলাশয়ের ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ছটপুজো উপলক্ষে বহু মানুষ সূর্যদেবের আরাধনা করতে নদী ও জলাশয়ের ধারে জমায়েত হন। সেই এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, ঘাট পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটগুলির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


